shono
Advertisement
Katwa

সন্তান জন্মানোর পরই মৃত্যু প্রসূতির! বন্ধের নোটিস সত্ত্বেও কেন চালু নার্সিংহোম? প্রশ্ন বিজেপির

অভিযোগ, কাটোয়া কাছারিরোডের ওই বেসরকারি নার্সিংহোমটির পরিকাঠামো এবং নিয়মকানুন লঙ্ঘনের জন্য কয়েক মাস আগেই বন্ধ রাখার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তারপরও বহাল তবিয়তে নার্সিংহোম চলছিল
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 11:06 AM May 20, 2026Updated: 11:08 AM May 20, 2026

সন্তান জন্মানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হল প্রসূতির। এই ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে ওই নার্সিংহোমের চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান মৃতার পরিবার পরিজন থেকে প্রতিবেশীরা। রাতে বিজেপির কর্মীরাও নার্সিংহোমে জড়ো হন। অভিযোগ, কাটোয়া কাছারিরোডের ওই বেসরকারি নার্সিংহোমটির পরিকাঠামো এবং নিয়মকানুন লঙ্ঘনের জন্য কয়েক মাস আগেই বন্ধ রাখার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তারপরও বহাল তবিয়তে নার্সিংহোম চলছিল। এদিকে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা পরিকাঠামোগত ত্রুটিগুলি সংশোধন করে নার্সিংহোম চালাচ্ছেন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, কেতুগ্রামের মুরুন্দি গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ সুস্মিতা প্রধানকে (২৭) সন্তান প্রসবের জন্য গত শুক্রবার চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ। বধূর বাপেরবাড়ি কাটোয়ার শ্রীবাটি গ্রামে। বধূর মা মঙ্গলা প্রধান বলেন, "শুক্রবার ডাক্তারবাবুর চেম্বারে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের লক্ষ্য ছিল যেদিন ওই ডাক্তারবাবুর হাসপাতালে ডিউটি আছে সেদিন মেয়েকে ভর্তি করা হবে। ডাক্তারবাবুর মঙ্গলবার ডিউটি ছিল। সেই অনুযায়ী মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।" মঙ্গলবার সকালের দিকে কাটোয়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে সুষ্মিতাদেবীকে দেখাতে নিয়ে যান তাঁর স্বামী তাপস প্রধান এবং বাড়ির লোকজন। তাপসবাবু বলেন, "চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান অস্ত্রপচার করতে হবে। তিনি কাটোয়ার ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করার জন্য বলেন। আমরা সেই অনুযায়ী কাছারিরোডের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করি। সাড়ে এগারোটা নাগাদ নার্সিংহোমে সিজার করে সন্তান প্রসব করানো হয়।"

পরিবার সূত্রে খবর, নার্সিংহোমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সুস্মিতাদেবী। জ্ঞান ফিরলে বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এরপর পরিবারের লোকজন বাড়ি ফিরে যান। একজন থেকে যান। বিকেল পাঁচটা নাগাদ নার্সিংহোমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুস্মিতাদেবী। সঙ্গে সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ চিকিৎসককে ফোন করেন। রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল চলে আসেন। তারপর তিনি রোগীকে কাটোয়া হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দিলে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা নাগাদ কাটোয়া হাসপাতালে মৃত্যু হয় সুস্মিতাদেবীর। যদিও সদ্যোজাত সন্তান সুস্থই আছেন। এই ঘটনার পরেই হাসপাতালে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অনিল বসুর অভিযোগ, "যে নার্সিংহোমে ওই রোগীকে ভর্তির জন্য ডাক্তারবাবু পাঠিয়েছিলেন ওই নার্সিংহোম এমনিতেই স্বাস্থ্য বিভাগের ব্ল্যাকলিষ্টে ছিল। তারপরও শুধুমাত্র টাকার লোভে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক এই অন্যায় কাজ করেছিলেন। আমরা এনিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছি।" রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃতার পরিবার। যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলের দাবি, " চিকিৎসার গাফিলতি কিছু হয়নি। সন্তান প্রসবের পর রোগী সুস্থই ছিলেন। হঠাৎ বুকে যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখনও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। বাঁচানো যায়নি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement