shono
Advertisement
Purulia

ব্লক-আনব্লকের পর ঘনিষ্ঠতা! মেসে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের মাঝেই প্রেমিকার বিশেষ বন্ধুর ফোন, পুরুলিয়া কাণ্ডের নেপথ্যে প্রতিশোধ?

'ওর ফাঁসি চাই', বলছে মৃতার বাবা।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 11:25 PM Sep 13, 2026Updated: 11:25 PM Sep 13, 2026

তিন বছরের রিলেশনে নতুন বন্ধুর প্রবেশ! আর তারপরই একে অপরকে মোবাইল, ইন্সটাতে ব্লক। এরমধ্যেই প্রেমিকার কাজের সুযোগ আসায় ভিন জেলা যাওয়ার আগে পুরানো সম্পর্ক আরও নতুন করে জোড়া বাঁধে। কর্মস্থলে যাওয়ার আগে প্রেমিকের নির্জন মেসে ঘনিষ্ঠ হন তাঁরা। আর সেই সময়ই উত্তরাখন্ডে থাকা ওই নতুন বন্ধুর ফোন আসে প্রেমিকার মোবাইলে। মাথায় রক্ত চেপে যায় প্রেমিকের। প্রেমিকার গলা টিপে শ্বাস রোধ করলে মেসের মেঝেতে পড়ে যান তিনি। তারপর মেসে থাকা সবজি কাটা ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুন করে প্রেমিক। প্রমান লোপাটের জন্য মেসের মেঝে জল দিয়ে ধুয়ে বাইকে পেট্রল নিয়ে বস্তা কেনে। নলি কাটা প্রেমিকার মৃতদেহ বস্তায় ভরে বাইকে বেঁধে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য প্রায় ২৫ কিমি যাওয়ার পর নাকা চেকিং-এ আটকে যায় ওই প্রেমিক। এই হাড় হিম ঘটনা কোন সিনেমার প্লট নয়। পুরুলিয়ার ত্রিকোণ প্রেমের মর্মান্তিক বাস্তব পরিণতি।

Advertisement

নিহত তরুণী প্রীতিকা মাহাতো (২১)। তার বাড়ি বাঘমুন্ডির বুড়দা গ্রামে। ধৃত প্রেমিক ২৩ বছরের অমিতকুমার মাহাতো। তার বাড়ি বাঘমুন্ডির হুড়ুমদায়। তারা দুজনই টামনা থানা এলাকায় দু'কিমির মধ্যে পৃথক পৃথক মেসে থাকতো। দু'জনেই চাকরির পরীক্ষার জন্য পুরুলিয়া শহরের একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করত। প্রীতিকা ১ বছর ধরে পুরুলিয়ায় ছিলেন। অমিত রয়েছে প্রায় ৪ মাস। প্রীতিকার জীবনে আসা নতুন বন্ধুর বাড়িও ওই বাঘমুন্ডিতে। জিলিং গ্রামের বিষ্ণুপদ মাহাতো উত্তরাখন্ডে চাষাবাদ নিয়ে লেখাপড়া করেন। প্রীতিকা সম্প্রতি জিএনএম নার্সিং-র সুযোগ পান। এদিন রবিবার তার মেদিনীপুরের শালবনিতে যাওয়ার কথা ছিল। ধৃত প্রেমিক অমিত সম্প্রতি দুটি চাকরির পরীক্ষায় সিলেকশন হয়েছে। প্রীতিকার ভাইয়ের সঙ্গে অমিতের বন্ধুত্ব। সেই থেকেই তিন বছর ধরে প্রীতিকা-অমিত প্রেম। একে অপরকে বিয়ে করবে বলেও স্থির করে তারা। ফলে তাদের গোপন মেলামেশা চলতো। কিন্তু মেয়ের বাড়িতে এই সম্পর্ক সেভাবে মেনে নেয়নি। সম্প্রতি উভয়ের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়। ফলে চলতি বছরের ১ লা আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর মোবাইলে তারা একে অপরকে ব্লক করে রেখেছিল। সম্ভবত এই এক মাসের মধ্যেই নতুন বন্ধুর সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন নিহত প্রীতিকা। কিন্তু তিন বছরের সম্পর্কে থাকা অমিতকেও ভুলতে পারছিলেন না। ফলে কর্মসূত্রে রবিবার শালবনি যাওয়ার আগে শহরের উপকন্ঠে টামনা থানার রামকৃষ্ণপল্লীতে শনিবার বিকালে অমিতের মেসে তার ডাকেই দেখা করতে যান প্রীতিকা। সেখানেই ঘরে ভয়ংকর কাণ্ড।

পুলিশি জেরায় ধৃত অমিত জানিয়েছে, তার প্রেমিকার গলার নলি কাটার পর মেসে থাকা একটা বস্তাতে মৃতদেহ ঢোকাতে গিয়েছিল। কিন্তু ওই বস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় মেসের নিজের রুম তালা বন্ধ করে বাইক নিয়ে শহর পুরুলিয়ার দুলমিতে একটি পেট্রোল পাম্পে ১৫০ টাকার জ্বালানি নেয়। তারপর ওই এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে আটার বস্তা কিনে মেসে ফেরে। ওই বস্তায় মৃতদেহ পুরে দড়ি দিয়ে বাঁধে। যাতে বস্তা কোনোভাবেই খুলে না যায় তা নিশ্চিত হতে মোবাইলের চার্জারের তার দিয়েও বেঁধে দেয়। এরপর জল দিয়ে ওই মেসের রুম পরিস্কার করে। তার বাবাকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানায়। তারপরই নিজের ওই বাইকে বস্তাবন্দি মৃতদেহ বেঁধে প্রমাণ লোপাটের জন্য নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ছক করে। মেস থেকে বলরামপুরের পুরাতন জামশেদপুর রোডে প্রায় ২৫ কিমি যাওয়ার পর শনিবার রাত ১২ টা ২৫ নাগাদ পুলিশের নাকাতে আটকে যায় সে। সেই সময় বাইক চুঁইয়ে পড়ছিল রক্ত। পুলিশের সন্দেহ হলে ভেঙে পড়ে অমিত। এমন অপরাধের কথা শুনে চোখ কপালে উঠে যায় নাকায় ডিউটি করা বলরামপুর থানার পুলিশের।

প্রীতিকার বাবা ব্যবসায়ী ফলারি মাহাতো বলেন, "মেয়ে দুপুর একটার সময় মেস থেকে বার হয়ে টিউশন পড়তে গিয়েছিল। সেই সময় ওর মার সঙ্গে কথা বলে। আমি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ ফোন করি। শনিবার ফোন করলে সুইচড অফ পাই। তখন বুঝতে পারিনি এমন ঘটনা ঘটে গিয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে মেয়েকে না পেয়ে মেস মালিক দিদিকে ফোন করি। তারাও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আমি, স্ত্রী ও ছেলে মিলে পুরুলিয়া আসি। মেসের ওই দিদি নিখোঁজ ডাইরি করতে থানায় আসেন। আমরাও থানায় গিয়ে জানতে পারি আমার মেয়ে আর নেই। ওই খুনি ছেলেটার ফাঁসি চাই।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement