এ যেন মিলে যাওয়া, মিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা! একসঙ্গে জন্ম, এক স্কুল, এক ক্লাস, মাধ্যমিকেও একই নম্বর। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই বাস্তব, যা হার মানিয়েছে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। একই স্কুলে, একই ক্লাসে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও একই নম্বর পেয়ে নজির গড়ল যমজ ভাইবোন। মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ ব্লকের চাচন্ড বি জে হাইস্কুলের ছাত্র কৌশিক বিশ্বাস ও ছাত্রী সুপ্রিয়া বিশ্বাস - দু’জনেই এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬১১ নম্বর পেয়েছে। শুক্রবার ফলপ্রকাশের পর এমন হুবহু মিল দেখে তাজ্জব শিক্ষক থেকে অভিভাবক সকলেই। অবাক ভাইবোন নিজেরাও।
যমজ ভাইবোন সুপ্রিয়া-কৌশিকের মাধ্যমিকের মার্কশিটে একই নম্বর! নিজস্ব ছবি
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, একইসঙ্গে বড় হয়েছে কৌশিক-সুপ্রিয়া। স্কুলে এক ক্লাসে পড়াশোনা করেছে দুই মেধাবী ছাত্রছাত্রী। নিজেদের মধ্যে বেশ প্রতিযোগিতা ছিল যমজ ভাইবোনের। কেউ কখনও কারও থেকে ২, ৩ নম্বর কম পেত, আবার কখনও বেশি পেত। তফাৎ বলতে এটুকুই। কিন্তু এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সেই তফাৎটুকুও ঘুচিয়ে দিল! শুক্রবার মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশের পর মার্কশিট হাতে নিয়ে একেবারে চমকে ওঠে দুই ভাইবোন। একই নম্বর পেয়েছে দু'জন - ৬১১। এমন স্কোর দেখে অবাক শিক্ষক থেকে বাড়ির সকলে। হোক না যমজ, তবু দু'জনের এমন মিল যে আগে কখনও ঘটেনি! কৌশিক আর সুপ্রিয়ার কথাতেও সেই একই সুর। দু'জনেই বলছে, ‘‘আমাদের মধ্যে সবসময় ২,৩ নম্বরের ফারাক থাকত। কখনও এক নম্বর পাইনি। এবার মাধ্যমিকে একই নম্বর পেলাম।''
চাচন্ড বি জে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজাউর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। অভাবনীয় এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দুই ভাইবোনেরই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।"
বাড়িতে মায়ের সঙ্গে সুপ্রিয়া বিশ্বাস। নিজস্ব ছবি
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই খুশির আমেজ বিশ্বাস পরিবারে। মা পিঙ্কি বিশ্বাস নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বলেন, ‘‘ছেলে, মেয়ে দু’জনেই ভালোভাবে পাশ করেছে, এটাই ছিল বড় স্বস্তি। কিন্তু দু'জনে যে একদম কাঁটায় কাঁটায় একই নম্বর পাবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।" এলাকার মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা — এ যেন এক পরম বিস্ময়! একই পরিবার থেকে দুই কৃতীর এই সাফল্য শুধু স্কুল নয়, গোটা গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেছে। পরিবারের সদস্য ও স্কুল কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দিনেও তারা এইভাবেই একে অপরের হাত ধরে সাফল্যের শিখরে পৌঁছবে।
