বাবুল হক, মালদহ: রাজ্য জুড়ে রাম নবমীর আঁচের উত্তাপ। তারই মাঝে সম্প্রীতির নজির গড়ল মালদহ। প্রতিবেশী মুসলিম মহিলার শেষযাত্রায় সঙ্গী হলেন শুভাশিস চক্রবর্তী, সুবল রাজবংশী, সায়ন চুনারিরা। ঘটনাটি মালদহের চাঁচলের মালতিপুর গ্রামের।
[ফের সংঘর্ষে উত্তপ্ত রানিগঞ্জ, জারি ১৪৪ ধারা]
মৃত মহিলার নাম আরফুন বেওয়া (৭০)। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েই ভিড় জমতে থাকে বাড়িতে। নির্দিষ্ট সময়ে মরদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে শুভাশিস চক্রবর্তী, সুবল রাজবংশী, সায়ন চুনারিও যান সেখানে। প্রার্থনা শেষে হাতে হাতে মুঠো মুঠো মাটি দেওয়া হয় আরফুন বেওয়ার কবরে। সেই কাজেও শামিল হন তিন প্রতিবেশী হিন্দু। তবে এই ঘটনায় কোনও অভিনবত্ব দেখছেন না মালতিপুরবাসী। গোটা গ্রামেই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্মীয় উৎসবে যখন একসঙ্গে মিলিত হয়, তখন দুঃখের দিনের ছবি কী করে আলাদা হয়? তাই মুসলিম প্রতিবেশীর মৃত্যুতে কবরস্থানে উপস্থিত থেকে অন্ত্যেষ্টিতে অংশ নেন হিন্দু প্রতিবেশী। একইভাবে হিন্দু প্রতিবেশীর মৃত্যুতে মুসলিম প্রতিবেশীও শ্মশানে যান। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই রেওয়াজ। তাই রাম নবমীর উত্তাপে বিভেদের রাজনীতি শিকড় ছড়ালেও মালতিপুরে মানুষ তাঁর আঁচ পান না। উত্তেজনা দূরে থাক।
এই প্রসঙ্গে শুভাশিসবাবু বলেন, ব্রাহ্মণ হয়ে মুসলিম মহিলার কবরে মাটি দিতে এসেছি। এটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুতে তো দুঃখই লাগে। মৃত মহিলাকে মা বলে ডাকতাম। মায়ের মতোই স্নেহ ভালবাসা দিয়েছেন তিনি। ছেলে হয়ে আজকের দিনে তাঁর কবরে মাটি দেব না এটা হয় কখনও? এখানে কোনওদিন সম্প্রীতির অভাব ঘটেনি। আশাকরি ঘটবেও না। মালতিপুরে আমরা হিন্দু মসলিম ভাই ভাই।
[চূড়ান্ত সতর্কতায় শুরু উচ্চমাধ্যমিক, স্পর্শকাতর কেন্দ্র ১৫০]
বিভেদের রাজনীতি যখন রাজ্যের মানুষকে ধর্মের পাঁচিলে ঘিরে ফেলছে। তখন দক্ষিণ খোলা বারান্দার মতো জাগছে মালদহের মালতিপুর। সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে জানান দিচ্ছে, ধর্মীয় বিভেদের উত্তাপ ভাই ভাইয়ের উষ্ণতাকে পুড়িয়ে দিতে পারে না। বরং বিভেদের উত্তাপে সম্প্রীতির উষ্ণতা আরও গভীর হয়।
The post সম্প্রীতির নজির, মুসলিম মায়ের কবরে মাটি দিলেন প্রতিবেশী হিন্দু ছেলে appeared first on Sangbad Pratidin.
