সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল সাধারণ মানুষের। বলা হচ্ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ববর্তী বৈঠকের পরই এ ব্যাপারে অস্বস্তিতে পড়েছেন ডাক্তাররা। সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। এমনকী সার্টিফিকেটেও ডেঙ্গুর কথা লেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ উড়িয়ে ফের সামনে এলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, সরকারি তরফে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনওভাবেই আতঙ্ক ছড়ানো উচিত নয়। সংবাদমাধ্যমগুলিকে এ ব্যাপারে আরও দায়িত্ব নিতে আবেদন করলেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, মশা কেউ আমদানি করে না। তাই মশা মারার ব্যাপারে সকলকেই সতর্ক হতে হবে। পুরসভা ও পঞ্চায়েতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গু মহামারীর আকার ধারণ করেছে বলে যে খবর প্রচারিত হযেছে, এদিন তার তীব্র বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, “এর জন্য অনেকটা দায়ী আবহাওয়া। নভেম্বরেও বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এই সময় জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু প্যাথলজিক্যাল ল্যাবগুলি অনেক সময়ই ভুল তথ্য দিচ্ছে। তাতে বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”
[ অনুশীলনে লক্ষ্যভ্রষ্ট তির বিঁধল প্রতিযোগীর গলায়, সংকটে খুদে তিরন্দাজ ]
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধ্যমতো সরকারি ডাক্তাররা কাজ করছেন। চাপ নিয়েই কাজ করছেন। কখনও সখনও ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হচ্ছে তাঁদের। সব জায়গাতেই কিছু ভাল খারাপ লোক থাকে। যাঁরা ভাল কাজ করছে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” তবে তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিকে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে প্যানিক করছে কেউ কেউ। বিশেষ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতি তাঁর অনুরোধ, “সত্যিটা বলুন। হেলথ কমিশনে মানুষ বিচার পাক তা অনেকেই চায়নি। তাই ভুল কাগজ সরবারহ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” নবান্নেও ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়নি বলে জানান তিনি। সরকারি তথ্য মোতাবেক সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। প্রাইভেট হাসপাতালে বাকিদের মৃত্যু। তা নিয়ে তিনি কিছু বলতে নারাজ। রক্তের নমুনা না দেখেই ল্যাবগুলি রিপোর্ট দিচ্ছে। মানুষের জীবনের বিনিময়ে এ নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত এই অপরাধে তিনটে ল্যাবের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে।
[ রাজ্য কেন আদালতে, মমতার আধার মামলায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের ]
পাশাপাশি পুরসভাগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছে। বনগাঁ সাবডিভিশন, দমদম, ভাঙড়ের দুটি ব্লক, জলপাইগুড়ি, কৃষ্ণনগরের একটি ব্লক-সহ রাজ্যের সর্বত্রই বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যগুলিই একই সমস্যায় পড়েছে। নভেম্বরে আবার বৃষ্টি হয়েছে। তামপাত্রাও বদলাচ্ছে। বদলেছে ডেঙ্গুর ধরণও বদলেছে। বিভিন্ন রাজ্যেই অজানা জ্বর হচ্ছে। বন্যার পর জ্বর ডায়ারিয়ার প্রকোপ থাকে। ডেঙ্গুর জন্য তাই অনেকাংশেই দায়ী আবহাওয়া। এ নিয়ে প্যানিক না ছড়িয়ে মানবিকভাবে দেখা উচিত। বিভিন্ন চ্যানেলগুলিকে প্রাইম টাইমে সতর্কতামূলক বিজ্ঞাপন চালানোরও অনুরোধ করেছেন তিনি।
