অষ্টম শ্রেণির উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অথচ দিব্যি সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট ও কালো কোট পরে আদালত চত্বরে হাজির। দিনের পর দিন সেই পোশাকেই কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজও করে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে অভিযোগ যেতেই যেন সমস্ত কিছু ভেস্তে যায়। অষ্টম শ্রেণি ফেল সেই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন আইনজীবীরা। শুক্রবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাথাভাঙা (Mathabhanga) মহকুমা আদালত চত্বরে হইচই পড়ে যায়। ঘটনায় আবেদ আলি নামে সেই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
মাথাভাঙা বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী কৌশিক ভদ্র জানিয়েছেন, আদালত চত্বরে রীতিমতো আইনজীবীর পোশাক পরে বিচার প্রার্থীদের কাছে প্রতারণার বিষয়টি সম্প্রতি সামনে এসেছে। মাথাভাঙা মহকুমা আদালত চত্বরে এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই হাতেনাতে এদিন আবেদ আলি নামে এক অষ্টম শ্রেণি ফেল ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে উকিল পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করছিল। এদিন মাথাভাঙা বার অ্যাসোসিয়েশনের উকিলরা তাকে ধরে ফেলে মাথাভাঙা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই ধরনের ঘটনা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। তাই আরও যদি কেউ এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা হয় সেই দাবি তিনি জানিয়েছেন।
অন্য আইনজীবীরা জানিয়েছেন, যেহেতু ওই ব্যক্তি আইনজীবীর পোশাকে থাকত, তাই গ্রামগঞ্জ থেকে আসা বিচার প্রার্থীরা তাদের সঙ্গে প্রকৃত আইনজীবীর মধ্যে ভেদাভেদ করতে পারত না। আর সেই সুযোগ নিয়েই আবেদ আলি তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। কিন্তু একজন অষ্টম ফেল ব্যক্তি কি করে দিনের পর দিন আইনজীবীর পোশাক পরে আদালত চত্বরে ঘুরছিল, সেটায় এখন বড় প্রশ্ন।
