সৈকত মাইতি, তমলুক: পরকীয়া প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন স্ত্রী। এই সন্দেহে তাঁর গলায় কেবলের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করল শিক্ষক স্বামী। পরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হল সেও। সোমবার ভোরে এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনীর নারায়ণদাড়িতে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মলয়কান্তি মাইতি (৩৫) ও শর্মিষ্ঠা মাইতি (২৯)। মলয়বাবু তমলুকের বিশ্বাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
[নদীতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু, শোকের ছায়া মালবাজারে]
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে তমলুকের স্কুলে চাকরি পান মলয়। এর কিছুদিন পরই তার বিয়ে হয় শর্মিষ্ঠাদেবীর সঙ্গে। দু’জনের একটি দু’বছরের ছেলে রয়েছে। মলয়বাবুর মা ছায়াদেবী সোমবার সকালে এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, সকাল সাতটা নাগাদ বউমাকে ঘুম থেকে ডাকতে যান। কিন্তু কোনও সাড়া না পেয়ে চা তৈরির জন্য রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াতেই ওই ঘরের পাশে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে দেখেন ছেলেকে। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বউমাকে ফের ডাকতে গিয়ে দেখেন তাঁর কোনও সাড়া নেই। বিছানার পাশে পড়ে রয়েছে কেবলের তার। দম্পতির শিশু সন্তান বিছানায় শুয়ে শুয়ে খেলছিল। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশী-সহ পরিবারের অন্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্তম্ভিত হয়ে যান। এলাকাবাসীরা জানান, হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়কের পাশে নারায়ণদাড়ি গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসাবে এলাকায় পরিচিতি ছিল মাইতি পরিবারের। তবে গত কয়েক মাস ধরে মলয়বাবু ও শর্মিষ্ঠাদেবীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। তাঁরা আরও জানান, শর্মিষ্ঠাদেবী ফোনে কারও সঙ্গে কথা বললে তার বিস্তৃত বিবরণ জানতে চাইতেন মলয়বাবু। এমনকী, শর্মিষ্ঠাদেবীর মোবাইল ফোনও ঘেঁটে দেখতে ছাড়তেন না।
[প্রেমের টানে অচেনা বাড়ির ছাদে যুবকের ‘আত্মগোপন’, চোর সন্দেহে শোরগোল সিউড়িতে]
স্বামীর ধারণা ছিল কারও সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে মজে রয়েছেন শর্মিষ্ঠাদেবী। সে কারণেই তাঁকে গলায় কেবল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের পর নিজে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন মলয়বাবু। প্রাথমিক সন্দেহের পর এমনটাই মনে করছেন তমলুকের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুরজিৎ মণ্ডল ও শহিদ মাতঙ্গিনীর ওসি স্বপনকুমার চাবড়ি।
The post পরকীয়া সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী শিক্ষক appeared first on Sangbad Pratidin.
