shono
Advertisement

Breaking News

Manas Bhunia

পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছিলেন মানস! দু'মাসের মধ্যেই বেকার, থানায় অভিযোগ যুবকের

প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, ''৫৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে, সিপিএমের ৩৪ বছর থেকে তৃণমূলের এত বছরের শাসন কোনও সময়েই আমার বিরুদ্ধে কেউ আঙুল তুলতে পারেনি। আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের উপকার করেছি।"
Published By: Kousik SinhaPosted: 04:27 PM Jun 17, 2026Updated: 04:59 PM Jun 17, 2026

চাকরির টোপে ৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, কাঠগড়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া (Manas Bhunia) এবং সবংয়ের দুই তৃণমূল নেতা। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার এক বাসিন্দা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন আগেই তৃণমূল দল থেকে ইস্তফা দেন মানস ভুঁইয়া। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের। তবে জানা যাচ্ছে, তৃণমূল ছাড়ার পর থেকেই কলকাতায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ''এটা একটা ভয়ঙ্কর চক্রান্ত, ভয়ঙ্কর প্রতিশোধস্পৃহা।'' তবে সত্য সামনে আসবে বলেও মন্তব্য মানস ভুঁইয়ার।

Advertisement

অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন এবং তিনি আশঙ্কা করছেন যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে। পুরো ঘটনায় সবং থানার পুলিশ লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং, সবং বিধানসভার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রী মঞ্জু সাহু টুংকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অভিযোগ তৎকালীন মন্ত্রী ডা. মানস রঞ্জন ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় এবং তৃণমূল নেতা শেখ আবু কালাম বক্স ও ভোলানাথ দের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘CISB Services Private Limited’-এর অধীনে STEWARD পদে তেমাথানীর সেচ বাংলোয় কাজে যোগ দেন মঞ্জু সাহু টুং। তাঁর ওয়ার্কম্যান রেজিস্টার নম্বর ছিল CISB/WB-46। পরিবারের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর নিয়মিত কাজ করলেও মাত্র দু'মাসের মাথায় গত ৬ মে তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এমনকী চাকরি বাতিলের নির্দেশের কপিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। 

জানা গিয়েছে, মার্চ মাসের বেতন হিসেবে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার ৭৪৭ টাকা জমা পড়ে। এদিকে হঠাৎ চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পরিবারটি চরম মানসিক ও সামাজিক চাপে পড়ে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী বিকাশ কুমার টুং দাবি করেছেন, এই পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন এবং তিনি আশঙ্কা করছেন যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে। পুরো ঘটনায় সবং থানার পুলিশ লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে মানস ভুঁইয়া বলেন, "এটা একটা ভয়ঙ্কর চক্রান্ত, ভয়ঙ্কর প্রতিশোধস্পৃহা। কেউ না কেউ তলায় তলায় অপারেট করছে। সবংয়ের মানুষ এর জবাব দেবে, আর আইন আইনের পথেই চলবে।" তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও কোনও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, ''৫৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে, সিপিএমের ৩৪ বছর থেকে তৃণমূলের এত বছরের শাসন কোনও সময়েই আমার বিরুদ্ধে কেউ আঙুল তুলতে পারেনি। আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের উপকার করেছি।" অভিযোগকারীর উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "যে মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি কোনওদিন কারও কাছ থেকে সুপারি, মিষ্টি বা উপঢৌকন নেননি। আমি টাকা নিয়ে কাজ করার লোক নই।"

বর্তমান বিধায়ক অমল পান্ডার প্রসঙ্গ টেনে মানস ভুঁইয়া বলেন, "অমল পণ্ডাকে জিজ্ঞেস করুন, তিনি এতদিন আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি জানেন, মানস ভুঁইয়া টাকা নিয়ে কাজ করার মানুষ নন।" সবশেষে তিনি দাবি করেন, এই অভিযোগের পিছনে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেবে সবংয়ের মানুষ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, "আইন আইনের পথেই চলবে, সত্য একদিন সামনে আসবেই।"  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement