কাঁচরাপাড়া, হালিশহরের পর এবার ভাটপাড়া। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলিতে গণইস্তফার ধাক্কা আরও জোরাল হল। বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ একযোগে পদত্যাগ করলেন ২৯ জন কাউন্সিলর। ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরসভার রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম - সব কিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একইসঙ্গে শুক্রবার গারুলিয়া পুরসভাতেও একাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই অসন্তুষ্ট কাউন্সিলরদের মধ্যে একাধিক বৈঠক চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। ভাটপাড়া পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে দুই কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩৩ জনের মধ্যে এদিন চেয়ারম্যান-সহ ২৯ জন কাউন্সিলরের একযোগে ইস্তফার খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।
ভাটপাড়া পুরসভা মানেই একসময়ে ছিল একচেটিয়া 'বাহুবলী' নেতা অর্জুন সিংয়ের দাপট। তিনি পুরচেয়ারম্যানও ছিলেন। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর পুত্র পবন সিং এখন ভাটপাড়ার বিধায়ক। তারপর থেকেই ভাটপাড়া পুরসভায় জটিলতা বাড়ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল কাউন্সিলরদের একাংশে। সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই অসন্তুষ্ট কাউন্সিলরদের মধ্যে একাধিক বৈঠক চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। ভাটপাড়া পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে দুই কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩৩ জনের মধ্যে এদিন চেয়ারম্যান-সহ ২৯ জন কাউন্সিলরের একযোগে ইস্তফার খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।
পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “ভাটপাড়া পুরসভা এলাকার মধ্যেই পড়ছে ভাটপাড়া ও জগদ্দল - দুটি বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ পুরসভার নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতা। এলাকায় একাধিক পুকুর ভরাটের অভিযোগ, নেতৃত্বের ঔদ্ধত্য ও অহংকার সবকিছুরই প্রভাব পড়েছে ভোটের ফলে। পাশাপাশি, বিধানসভার ফল ঘোষণার দিন থেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পুরপরিষেবা আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেই কারণেই আমরা ইস্তফা দিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ১৫ জন এবং বুধবার হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফার ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাপের মুখে পড়েছে তৃণমূল। তার মধ্যেই ভাটপাড়ায় আরও বড়সড় ভাঙন পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শিল্পাঞ্চল জুড়ে পুর প্রশাসনের ভিত নড়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে এই ধারাবাহিক ঘটনায়। এদিকে সূত্রের খবর, শুক্রবার গারুলিয়া পুরসভাতেও একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
