ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত আলগা হয়ে গিয়েছে। সংক্রমণের মতো বেড়েই চলেছে তৃণমূলের নীচুতলার নেতাদের গ্রেপ্তারি। নতুন সরকার আসতেই ঘরে বাইরে সাঁড়াশি চাপে পড়েছেন দলের তথাকথিত 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'ও। দুর্নীতির 'অট্টালিকা' ভাঙতে প্রশাসনিক তৎপরতা চিন্তায় ফেলেছে অভিষেককে। বঙ্গে বিজেপির 'ভরসা ইন' হতেই অভিষেকের 'ভরসার পাত্র'রা একে একে সেঁধিয়ে যাচ্ছেন ঘরের ভিতরে। ফলতায় নির্বাচনের একদিন আগেই 'সারেন্ডার' করেছিলেন অভিষেকের 'পুষ্পা'। এবার সেই পথেই পিছু হটলেন নন্দীগ্রামের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন পবিত্র কর ও তার স্ত্রী শিউলি কর।
নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর বুথে বিজেপির টিকিটে জয়ী পবিত্র কর। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূল যোগদান। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেও সদস্যপদ ছাড়েননি তিনি। তাঁকেই শুভেন্দু বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে নামিয়েছিল দল। নন্দীগ্রামে গোহারা হেরে এবার পঞ্চায়েতের পদ ছাড়তে মরিয়া পবিত্র! তবে একা নন, সদস্যপদ ছাড়ার আবেদন জানিয়েছেন পবিত্রর স্ত্রী শিউলি করও। একই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৭ নম্বর বুথ থেকে বিজেপির সদস্য ছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারন দেখিয়ে বয়াল-১ নং অঞ্চলের প্রধানের কাছে দু'জনেই পঞ্চায়েতের সদস্য পদ থেকে ইস্তফার আবেদন করেছেন।
একুশের ভোটের আগে তিনি শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। এমনও শোনা যায়, একুশে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের নেপথ্য কারিগর এই পবিত্র কর। তবে বছর খানেকের মধ্যে গেরুয়া শিবিরের প্রতি তাঁর মোহভঙ্গ হয়। রাজনৈতিকভাবে কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে পবিত্রর তৃণমূলে যোগদান ছিল এক চমকপ্রদ মুহূর্ত। ১৭ মার্চ দুপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের হাত ধরে তৃণমূলে 'ঘর ওয়াপসি' হয় পবিত্র করের। নন্দীগ্রামে তৎকলীন বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে পবিত্রই ছিল তৃণমূলের 'হাতিয়ার'। বুকে জড়িয়ে যোগদানের পর তাঁর হাত ধরেই নন্দীগ্রামের মাটি 'পবিত্র' করার ডাক দিয়েছিলেন অভিষেকই। কিন্তু পরিবর্তনের ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সমস্ত আশা-আকাঙ্খা। নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতার কাছে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়েছে পবিত্রকেও। স্থানীয় বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল জানান, "তৃণমূলে যোগদানের আগে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করা পদ ছাড়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করেনি। এখন চাপে পড়ে পদ ছাড়ছেন।" দলের ভরাডুবি হতেই ধোপে টিকছে 'মডেল' অভিষেক। ফলতার 'পুষ্পা'র পথেই এবার বেসুরো হলেন সেনাপতির আরও এক 'শিষ্য'?
