অরিজিৎ গুপ্ত, হাওড়া: রাতের জাতীয় সড়কে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। হাওড়ার ধুলাগড়ের কাছে ১৬ নং জাতীয় সড়কের উপর দাউদাউ জ্বলে উঠল বাস! দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, রাত সাড়ে ন'টা নাগাদ ধুলাগড় বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাসায়নিক বোঝাই লরিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। আগুনের লেলিহান শিখায় কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জ্বলে যায় ফাঁকা একটি বাসও। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অগ্নিকাণ্ডের জেরে জাতীয় সড়কে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল।
রাসায়নিক বোঝাই লরি থেকে অগ্নিকাণ্ড, শুক্রবার রাতে, ধুলাগড়ে ১৬ নং জাতীয় সড়কে। নিজস্ব ছবি।
বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাঁকরাইল থানার পুলিশ। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন গিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু রাসায়নিকের গাড়িতে আগুন লাগায় তা চোখের নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তার একাংশ আগুনের গ্রাসে চলে যায়। হাওয়ার বেগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খান দমকল কর্মীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাড়ে ১০টার পরও আগুন সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ঘটনাস্থলে রয়েছেন হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা। জাতীয় সড়কের উপর এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় বিপদ এড়াতে যান চলাচলে রাশ টানা হয়েছে।
ধুলাগড়ে রাসায়নিক বোঝাই লরিতে আগুন। নিজস্ব ছবি
দমকল ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল ওই পেট্রল পাম্পের সামনে থাকা একটি বাস ও বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্ক পুড়ে গিয়েছে। তবে আরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান। তার সঠিক হিসেব এখনও জানা যায়নি। আপাতত ভয়াবহ আগুন থেকে মানুষজনকে নিরাপদে রাখার দিকে নজর পুলিশ ও দমকল বিভাগের। পেট্রল পাম্পের এক কর্মচারীর কথায়, ''আগুন লেগে গিয়েছিল একটা গাড়িতে। তখন চালক ছিল না। আগুন দেখামাত্র অন্যান্য গাড়ির চালকরা এসে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের বাহবা দেওয়ার মতো কাজ করেছেন।'' হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, রাসায়নিক ট্যাঙ্কার থেকে এই বিপত্তি। তবে খুব দ্রুত আগুন নেভানো হয়।
