দুর্গাপুরের (Durgapur) বেসরকারি আইকিউ সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু! হস্টেলের বাথরুম থেকে উদ্ধার ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। দেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালেই। কী করে পড়ুয়ার মৃত্যু তা নিয়ে ধোঁয়াশা। তরুণ আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান। কিন্তু এখনও মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, গত বছর এই কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন।
মৃত ছাত্রের নাম লাবণ্য প্রতাপ। বয়স ২২ বছর। তিনি বিহারের পাটনার বাসিন্দা। শনিবার রাতে হস্টেলের বাথরুম থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। জানা গিয়েছে, পরপর বেশ কয়েক বছর একটি সেমিস্টারের পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। অনুমান, সেই কারণেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু আত্মহত্যা নাকি, অন্য কোনও কারণ তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। শনিবার রাতে তাঁকে ঝুলতে দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে যায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে রাখা হয় হাসপাতালেই। খবর দেওয়া হয়েছে পরিবারকে। আজ, রবিবার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্ত শুরু হয়েছে। কথা বলা হচ্ছে মৃতের বন্ধুদের সঙ্গেও।
রবিবার ছেলের মৃত্যুর খবর সহপাঠীদের থেকে পেয়ে কলেজে এসে মৃত ছাত্রের বাবা অনিলকুমার প্রতাপ বলেন, "ছেলের সহপাঠীর ফোনে ঘটনা জানতে পারি। কলেজের ব্যবস্থা ঠিক নেই। আমরা দূর থেকে টাকা পাঠিয়ে ছেলেকে পড়াচ্ছি। ওদের দেখার কাজ। কিন্তু নজর দেয়নি। সিসিটিভি দেখা উচিত।" তবে ছেলে পড়াশোনায় ভালো ছিল না এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, "এবার রেজাল্ট ভালো হয়নি। চার পাঁচ দিন আগে রিভিউয়ের ফলও ভালো হয়নি। প্রাকটিক্যালে ৫ নম্বর দিয়েছে। ছেলে বারবার বলতো এখানকার শিক্ষকরা শোষণ করেন।" এই বিষয়ে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান, "প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। কলেজের হোস্টেলের সিসিটিভি দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে কারণ আরও পরিষ্কার হবে।" আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিইও সুদর্শনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, "অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ও পরিবারকে জানাই। তদন্তের জন্যে আমরা পুলিশকে সবরকমের সহযোগিতা করব।"
উল্লেখ্য, দুর্গাপুরের এই বেসরকারি কলেজেরই এক ছাত্রীকে কলেজের পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর সহপাঠী ও স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। ধর্ষণ মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ছাত্রের রহস্যমৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
