ফের বিজেপি শাসিত শহরে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজস্থানের জয়পুর থেকে হরিশ্চন্দ্রপুরের ওই যুবকের বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বছর ৩৫-এর ওই যুবকের বাড়ি হরিশচন্দ্রপুরের ১ ব্লকের ভিঙ্গোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। দেড় মাস আগে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে জয়পুরে কাজের উদ্দেশ্যে যান তিনি। সেখানে ওই যুবক প্লাস্টিক কুড়ানোর কাজ করতেন। ভোটের আগে তাঁর রাজ্যে ফেরার কথা ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য তিনি জয়পুরের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চিন্তায় পড়ে যান। এরপরই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বৃহস্পতিবার বিকেলে জয়পুরের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি মন্দিরের কাছে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওই পরিযায়ী শ্রমিকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে সেখানকার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলায় অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। জয়পুর থেকে দেহ কীভাবে বাড়িতে নিয়ে আসা হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান হরিশ্চন্দ্রপুরের সিপিআইএম প্রার্থী শেখ খলিল। পরিজনদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জয়পুরের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দেহ রাজ্যে নিয়ে আসার আশ্বাস দেন তিনি।
মৃতের বাবা জানিয়েছেন, তাঁর দুই ছেলে। তাঁদের মধ্যে মৃত যুবক বয়সে বড়। মৃতের দুই নাবালক সন্তান রয়েছে। অভাবের সংসার হওয়ায় দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে জয়পুরে গিয়েছিলেন। সেখানেই কাজ করতেন। ভোটের জন্য হরিশচন্দ্রপুরে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। ছেলের আর বাড়ি ফেরা হল না। তাঁকে অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার তাঁর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করা হয়। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই তাঁকে খুন হতে হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
