বেঙ্গল এসটিএফের জালে জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডল। বর্ধমান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিম মণ্ডল হাওড়ার পিলখানাতেও বেশ কিছুদিন কাজ করেছে! সেই বিষয় সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পিলখানার শ্রমিকদের মধ্যে। কিন্তু কে এই হামিম? পিলখানার কোথায় সে কাজ করত? সেই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। পিলখানার শ্রমিকরাও এই হামিম মণ্ডল সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি।
পিলখানায় দৈনিক মজুরিতে অসংখ্য অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করতে আসেন। দৈনিক মজুরিতে কেউ কাপড়ের মিলে, কেউ আবার কোনও কারখানার মুটে-মজুরের কাজ করেন। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের পরিচয়পত্র জমা রাখা হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে এমনভাবে পিলখানায় কাজ চলছে! বাইরে থেকে বহু শ্রমিক কাজ করতে আসেন। আবার হঠাৎ করেই একদিন কাজে আসা বন্ধ করে দেন। ফলে নির্দিষ্টভাবে কারও পরিচয় জানা সম্ভব হয় না এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে। প্রশ্ন উঠছে, সস্তার মজুরিতেই জেহাদের জাল ছড়াচ্ছে হাওড়ায়? অচেনা লোকেদের ভিড় বাড়ছে পিলখানায়?
পিলখানায় দৈনিক মজুরিতে অসংখ্য অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করতে আসেন। দৈনিক মজুরিতে কেউ কাপড়ের মিলে, কেউ আবার কোনও কারখানার মুটে-মজুরের কাজ করেন। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের পরিচয়পত্র জমা রাখা হয় না। দীর্ঘ সময় ধরে এমনভাবে পিলখানায় কাজ চলছে!
কেন অস্থায়ী শ্রমিকদের কোনও পরিচয়পত্র, নথি রাখা হয় না? সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে এই বিষয়ে পরিষ্কার কোনও বার্তাই কোনওপক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। উত্তর হাওড়ার পিলখানায় দীর্ঘদিন কাজ করতে জঙ্গি হামিম! বিষয়টি শুনেই অনেকে এদিন শিউড়ে উঠেছেন। শেখ আখতার নামে পিলখানার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আমরা হামিদকে চিনি না। তবে সে জঙ্গি জেনে আতঙ্ক লাগছে। পুলিশ সঠিক কাজই করছে, ওকে ধরেছে। আরও কড়া হাতে এই ধরনের জঙ্গিদের শাস্তি দিক পুলিশ।" শ্রমিরা দাবি করছেন, এবার থেকে পিলখানায় কাউকে ভাড়াটে হিসেবে থাকতে দিলে সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য নেওয়া উচিত।
হামিম উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাইকেও হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, "আমাকেও হুমকি দিয়েছে ধৃত হামিম। এরা দাবি করেছিলে ওরা মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের মেরে দেবে।" জঙ্গি গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে এদিন উমেশ আরও বলেন, ‘‘একসময় পশ্চিমবঙ্গ জেহাদিদের নিরাপদ থাকার জায়গা ছিল। সন্ত্রাসবাদীরা ভুলে গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ এখন রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক দলের হাতে রয়েছে। এরকম যতজন আছে, তাদের এক একজনকে চিহ্নিত করে ধরা হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।" প্রসঙ্গত, হুমকি পেয়েই এই বিষয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মন্ত্রী।
