তালাবন্ধ ঘরেই দিনের পর দিন সাইবার প্রতারণার ছক। ঘরের আনাচেকানাচে ৩৬০ ডিগ্রি জুড়েই নজরদারি চলত। সেই ঘরেই 'জামতারা গ্যাং'য়ের কাজকর্ম হত বলে অভিযোগ। আসানসোলের কুলটিতে বড় অভিযান চালাল পুলিশ-প্রশাসন। উদ্ধার হল সাইবার প্রতারণার একাধিক সরঞ্জাম। বিপুল সংখ্যায় মোবাইল, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক উদ্ধার হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুলটির নিয়ামতপুর হরিজনপাড়া এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। জিটি রোডের পাশে সরু গলি। দু'পাশে দোতলা-তিনতলা বাড়ি। ওই এলাকাই বাংলার দ্বিতীয় ‘জামতারা’ হিসেবে পরিচিত হয়েছিল। এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযান সম্পূর্ণ করতে পারেনি পুলিশ-প্রশাসন। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে নিয়ামতপুরের ওই এলাকায় অভিযান চালান পুলিশ আধিকারিকরা।
ওই এলাকার একাধিক বাড়ির দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। সেসব তালা ভেঙেই ভিতরে ঢোকেন আধিকারিকরা। ভিতরের পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো চক্ষুচড়কগাছ পুলিশের। ঘুপচি ঘরের আনাচেকানাচে বসানো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়া সিসিটিভি ক্যামেরা। অনুমান, ওইসব সিসিটিভির মাধ্যমেই পুলিশের গতিবিধি নজর রাখত দুষ্কৃতীরা। তল্লাশি চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে প্রচুর সংখ্যায় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক। এছাড়াও মিলেছে বিপুল সংখ্যায় এটিএম কার্ড ও নতুন সিম। তদন্তকারীদের দাবি, এই নিয়ামতপুর হরিজন পাড়ার মডিউল একেবারে ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত জামতারা কিংবা নারায়ণগঞ্জের ধাঁচে তৈরি।
এই জালিয়াতিচক্র কেবল রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও ছড়িয়ে। বিদেশেও জাল বিছানো রয়েছে বলে অনুমান আধিকারিকদের। এই চক্র কোটি কোটি টাকার ওটিপি ও অনলাইন জালিয়াতি চলত বলে অনুমান। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, ওই এলাকার মোট ২৮ জন সাইবার ক্রিমিনাল হিসাবে চিহ্নিত। এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিরা পলাতক। তাদের খোজে তল্লাশি জারি রয়েছে। বহু ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
