shono
Advertisement
Ashoknagar

নীলবাতির গাড়ি, সঙ্গী দেহরক্ষী! 'হিরো' সাজতে অফিসার সেজে অশোকনগরের স্কুলে স্কুলে ঘুরল নাবালক

প্রাথমিক অনুমান, বন্ধুদের কাছে হিরো সাজতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। তবে সে কোনও মানসিক সমস্যায় ভুগছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Published By: Subhankar PatraPosted: 03:41 PM Jan 24, 2026Updated: 05:54 PM Jan 24, 2026

পুজোর কাজে ব্যস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ছাত্রছাত্রীদের ভিড় মণ্ডপে। আমন্ত্রিত অতিথিদের কেউ কেউ এসে গিয়েছেন। দম ফেলার জো নেই প্রধান শিক্ষকের। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন হাই স্কুলের গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় পরপর তিনটি গাড়ি। সেগুলির মধ্যে একটি গাড়িতে লাগানো নীলবাতি। সেটি থেকেই সুটেড,বুটেড হয়ে নামে স্কুলেরই প্রাক্তন নাবালক পড়ুয়া। সঙ্গে ৮ থেকে ১০ জন বাউন্সার। প্রধান শিক্ষককে নমস্কার করে নিজের পরিচয় দিয়ে বলে সে আয়কর দপ্তরের অফিসার। সেখান থেকে অন্য একটি স্কুলেও যায়। সেখানেই একই কাণ্ড করে। পরে ভুয়ো আয়কর অফিসার সাজার জন্য নাবালককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

Advertisement

নাবালক পড়ুয়া অশোকনগরের (Ashoknagar) বাসিন্দা। চলতি বছরেই অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক দেওয়ার কথা ছিল। সে পড়াশোনায় মধ্যমানের। কিন্তু দশম শ্রেণীর পড়াশোনা শুরু হতেই লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে দেয় সে। ১৬ বছরের সেই প্রাক্তন ছাত্রই সরস্বতী পুজোর দিনেই আয়কর দপ্তরের অফিসার পরিচয় দিয়ে স্কুলে দিব্যি ঘুরে বেড়াল। স্কুলের প্রাক্তন নাবালক পড়ুয়া দেখে প্রথমে চিনতেই পারেননি প্রধান শিক্ষক মনোজ ঘোষ। তাঁকে নমস্কার করে নিজের পরিচয় দেয় নাবালক। মনোজবাবু জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, "স্যর আমি আয়কর দপ্তরের অফিসার হয়েছি। স্কুলের পুজো দেখতে এসেছি।"

কথা শুনে মনোজবাবু অবাক হলেও, পুজোর চাপে বিষয়টি আমল দেননি। নিজের পুরনো স্কুলে কিছুক্ষণ থেকে অশোকনগরের অন্য একটি বিদ্যালয় বিধানচন্দ্র বিদ্যাপীঠ স্কুলে হাজির হন। সেখানেও সে একই পরিচয় দেয়। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় নাবালককে বসিয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক খবর দেন অশোকনগর থানায়। পুলিশ এসে নাবালক ও ৩ জনকে থানায় নিয়ে যায়। বাকিরা পলাতক। কিশোরকে বসিয়ে তার বাবা-মাকে ডাকা হয়। তাঁদের বিষয়টি জানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় কিশোরকে।

প্রাথমিক অনুমান, বন্ধুদের কাছে হিরো সাজতে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। তবে সে কোনও মানসিক সমস্যায় ভুগছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বারাসতের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সম্ভবত মানসিক কারণ থেকে সে এ কাজ করে থাকতে পারে।যেহেতু সে নাবালক, তাই বিষয়টি আলোচনা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement