শাশুড়িকে খুনের ঘটনার জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ছোট বউমা। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর সঙ্গী ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও। আসানসোল (Asansol) উত্তর থানার লালগঞ্জের বাসিন্দা বউমা রিয়া রায়কে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করে। তাঁর সঙ্গী ঝাড়খণ্ডের ডাল্টনগঞ্জের বাসিন্দা সমীর আলমকে আসানসোলের জিটি রোডের ভগৎ সিং মোড় এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের এদিন আদালতে তোলা হলে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। একদিনের মধ্যে পুলিশ এই খুনের কিনারা করল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ জানুয়ারি লালগঞ্জ এলাকায় মৌ রায় নামে এক মহিলার অচৈতন দেহ উদ্ধার হয় বাড়িতেই। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মৃতের ছেলে লক্ষ্য করেন, মায়ের গলায় কিছু চিহ্ন রয়েছে। আর মা যেসব গয়না পরেছিলেন। তা নেই। এরপর আসানসোল উত্তর থানায় খবর দেওয়া হয়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে, মহিলাকে গলায় দড়ি জাতীয় কিছুর ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ জানতে পারে ঘটনার ১৩ দিন আগে ৩ জানুয়ারি শাশুড়ি তাঁর ছোট পুত্রবধূ রিয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসানসোল উত্তর থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপর হঠাৎ করেই মৌ রায়ের মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুনের মামলা দায়ের করে পুলিশ। তার ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, রিয়া রায়ের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে। যে ঝাড়খণ্ডের ডাল্টনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয় রিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই রহস্যময় মৃত্যুর সাথে জড়িত থাকতে পারে। পরে পুলিশ ডাল্টনগঞ্জের ওই যুবকের সন্ধান শুরু করে। পুলিশের এক দল বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোলের ভগত সিং মোড় থেকে সমীর আলম নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মৌ রায়কে খুন করার কথা স্বীকার করেন। এর পাশাপাশি সে রিয়া রায়ও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায়। এরপর রিয়া রায়কে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার তদন্তের জন্য দু’জনকে আরও জেরা করা হবে। ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস জানান, ডাল্টনগঞ্জের এই যুবক আসানসোলে এসে একটি হোটেলে থাকত। সেই হোটেলের ঘর থেকে মৃত মহিলার গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রিয়ার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে সমীরের পরিচয় হয়।
