ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের। তা নিয়ে তোলপাড় জেলার রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর পরামর্শ, পরিযায়ী শ্রমিকেরা সমস্যায় পড়লেই যেন সেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন।
গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই ভিনরাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিদের উপর হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় বঙ্গরাজনীতি। 'বাঙালি বিদ্বেষের' কারণে অনেককে শ্রমিককে খুন হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ। তার সর্বশেষ সংযোজন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার আলাউদ্দিন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার বহরমপুরের সভা থেকে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। তাঁদের জন্য দু'টি হেল্পলাইন নম্বরও দিয়েছেন। তা হল, ৭৪৩০০০০০৩০ এবং ৯১৪৭৮৮৮৩৮। অভিষেকই জানান, এই নম্বর দু'টি জেলা প্রশাসনের। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যার কথা শুনে জেলা প্রশাসনই যা পদক্ষেপ করার করবে।
ঝাড়খণ্ডের পলামুর বিশ্রামপুর এলাকার বাড়ি থেকে আলাউদ্দিনের দেহ উদ্ধার হয় গত বৃহস্পতিবার। পরিবারের দাবি, আলাউদ্দিনকে বাংলাদেশি সন্দেহে খুন করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, আলাউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেনের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিষেক। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন। শনিবার অভিষেক জানান, তিনি আলাউদ্দিনের বাড়িও যাবেন। পরিবারকে সব রকম ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেবেন। এ-ও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও পরিবারকে ইতিমধ্যেই ২ লাখ টাকার আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড থেকে আলাউদ্দিনের দেহ আসে অ্যাম্বুল্যান্সে করে। দেহ-সহ সেই অ্যাম্বুল্যান্স আটকে, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরে মহেশপুর মোড় লাগোয়া এলাকায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়েরা। এক ঘণ্টার মধ্যে রেল অবরোধও শুরু হয়। বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে সকাল ১০টা নাগাদ। এক সময় আপ লালগোলা প্যাসেঞ্জারে ইট ছোড়া হয় বলেও দাবি। বিকেল সাড়ে ৩টের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, "আজকে বাংলা ভাষায় কথা বললে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে। বিজেপি রাজ্যগুলি এমন করছেন কেন? অসমে গেলে পেটান, রাজস্থানে-মধ্যপ্রদেশে-দিল্লি-বিহারে গেলে পেটান! কেন? পেটানো ধর্ম নয়। জীবন (জিন্দেগি) দেওয়া ধর্ম।"
পালটা বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পাল্টা বলেন, ‘‘বেলডাঙায় যে ব্যক্তিকে হত্যার কথা বলা হচ্ছে তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আমরা চাইছি, তদন্ত হোক।’’ তাঁর টিপ্পনী, ‘‘ঝাড়খণ্ড সরকার মুখ্যমন্ত্রীর ভাই-বন্ধুর সরকার। সেখানে বিজেপির সরকার নয়। তা হলে সেখানে মৃত্যুর দায় কেন বিজেপির উপরে চাপাচ্ছেন?’’
