ঠিক যেন সিনেমা! স্বামীর উপস্থিতিতে প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন স্ত্রী। এই ঘটনার সাক্ষী মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার বড়ঞা থানার পাঁচথুপী পঞ্চায়েতের পুলিয়া কালিতলা। সমালোচনা নয়, বরং হাসিমুখে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করল গোটা গ্রাম।
জানা গিয়েছে, প্রায় ছয় বছর আগে জজানের বাসিন্দা রাজেন বিত্তার সঙ্গে বিয়ে হয়ে ছিল সীমা মাঝির। তাদের পাঁচ বছরের এক পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। দীর্ঘদিন ধরেই নানারকম অশান্তি চলছিল তাঁদের মধ্যে। দাম্পত্যকলহের জেরে তাঁদের মাঝে ঢুকে পড়েন শ্রীকান্ত। সীমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তবে ভালো যখন বেসেছেন, তখন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেবেন বলেই স্থির করেছিলেন ওই যুবক। তাঁর ইচ্ছেই পূরণ হল। স্বামীর সামনেই প্রেমিকের হাতে সিঁদুর পরলেন সীমা। বিবাহ বাসরে দাঁড়িয়ে রাজেন বলেন, "যে চলে যেতে চায় তাকে কি আর ধরে রাখা যায়! নতুন জীবনে ওরা সুখে থাকুক।"
বিয়ের পর নবদম্পতি। নিজস্ব চিত্র
পাঁচথুপি পঞ্চায়েতের সদস্য নান্টু ঘোষ জানান, "বছর ছয় আগে রাজেন এবং সীমা মাঝির বিয়ে হয়। তাঁদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। শুনেছি দম্পতির সংসারে খুবই অশান্তি ছিল। তাই সীমা নতুন করে আবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তাতে আপত্তি জানায়নি রাজেন।" এ প্রসঙ্গে সীমা মাঝি বলেন, "আমাদের সংসারে খুব অশান্তি ছিল। আমার উপর অত্যাচার করত প্রাক্তন স্বামী। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার একটি পাঁচ বছরের ছেলে রয়েছে। এখন ছেলে আমার কাছেই থাকবে।”
সীমার সদ্য বিবাহিত স্বামী শ্রীকান্ত বলেন, "গত প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। সীমার প্রাক্তন স্বামী ওকে খুব মারধর করত। এছাড়া আমার স্ত্রীর সঙ্গেও বনিবনা হচ্ছিল না। তাই দু'জনে নতুন করে সংসার পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" সীমা মাঝির বাবা রতন মাঝি জানিয়েছেন, "মেয়ের সংসারে প্রচুর অশান্তি ছিল। তারপরও আমি তাঁকে মানিয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু মেয়ে মানেনি এবং নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব সে যেন সুখী হয়।" তবে সম্পর্কের আইনি সমীকরণ যাই হোক না কেন, একরত্তির জীবনে সেই জটিলতা কোনও প্রভাব ফেলবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
