'জন্ম যখন হিন্দুকুলে, ভোট দাও পদ্ম ফুলে।' বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি যখন এমন স্লোগানকে দিয়ে বিভেদের রাজনীতি করতে ময়দানে নেমেছে। ঠিক তখনই ইফতার শেষ করে রক্ত দিয়ে এক হিন্দু মহিলার জীবন বাঁচালেন মুসলিম যুবক। পাশাপাশি মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল কাঁথি ব্লাড ব্যাংকে। সমস্ত ভেদাভেদকে পেছনে ফেলে এক মুসলিম যুবকের রক্তে প্রাণ ফিরে পেলেন এক হিন্দু মহিলা। সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে মানবিকতাই তা আবারও প্রমাণ করলেন কাঁথির বাসিন্দা শাহনওয়াজ সাহা। তাঁর কথায়, 'মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধ থেকেই রক্তদানে এগিয়ে আসা।'
জেলায় রক্তদান আন্দোলনের অগ্রণী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফেয়ার ফিল্ড এক্সলেন্স পরিচালিত “এফ.এফ.ই লিভিং ব্লাড ব্যাংক”-এ জরুরি ভিত্তিতে এবং পজিটিভ রক্তের আবেদন আসে। মুমূর্ষু রোগী সরস্বতী বারিকের জীবন বাঁচাতে দ্রুত রক্তের প্রয়োজন ছিল। আবেদন পাওয়া মাত্রই সংস্থার সদস্যরা সম্ভাব্য রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু সেই রক্ত পাওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। সেই সময় মুশকিল আসান হয়ে এগিয়ে আসেন শাহনওয়াজ সাহা। যদিও খুব একটা সহজ ছিল না তাঁর কাছে রক্ত দেওয়া। ছিল রোজা রাখা। কিন্তু মানবিকতাই যে বড়! তাই রোজার ইফতার শেষ করার অল্প সময়ের মধ্যে কাঁথির শাহনওয়াজ সাহা মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে রক্তদানে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কাঁথি ব্লাড ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে রক্তদান করেন। তাঁর এই মানবিক পদক্ষেপেই নতুন জীবন ফিরে পান সরস্বতী বারিক।
সমস্ত প্রক্রিয়াটি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করেন সংস্থার সভাপতি তেহেরান হোসেন সহ সংগঠনের সদস্যরা।এই ঘটনা প্রমাণ করে, মানবতার বন্ধনই সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন। ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রক্তের রং এক। কাঁথি ব্লাড ব্যাংকের এই দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দিল মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের ।
