সন্তানকে দেখানোর নাম করে স্বামীকে ডেকে এনে খুনের অভিযোগ স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে। প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে স্বামীকে বিষ খাইয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদিয়ার শান্তিপুরে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত মনিকা দাস এবং তাঁর প্রেমিক তারক বিশ্বাস। অভিযুক্ত দুজনের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে শান্তিপুর থানায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি দিতে হবে।
পরিবারের দাবি, সেই খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর রাত থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তপন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তির নাম তপন দাস। তিনি শান্তিপুরের (Santipur) ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরে কৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা। পেশায় একজন দিনমজুর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২৩ বছর আগে হরিপুরের বাসিন্দা মনিকা দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় তপনের। তাঁদের ১৩ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। অভিযোগ, সম্প্রতি বাগআঁচড়ার বাসিন্দা তারক বিশ্বাস নামে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মনিকা। এরপর স্বামীর ঘর ছেড়ে সন্তান ও তারককে নিয়ে বাগআঁচড়ায় থাকতে শুরু করেন তিনি। প্রায় আট মাস ধরে সন্তানের সঙ্গে দেখা হয়নি তপনের।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মনিকা তপনকে জানান, তিনি ফের স্বামীর কাছে ফিরে আসতে চান। জরুরি কাগজপত্রের কাজ এবং ছেলেকে দেখানোর কথা বলে তপনকে হরিপুরে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, সেখানে মিষ্টি ও কোল্ড ড্রিংকস খেতে দেওয়া হয় তপনকে। পরিবারের দাবি, সেই খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর রাত থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তপন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তপনের পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রী মনিকা দাস এবং তাঁর কথিত প্রেমিক তারক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় লিখিত খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া দুই অভিযুক্ত।
