shono
Advertisement
North Bengal Medical College

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কি পরিত্যক্ত রোগীদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’, প্রশ্ন

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ সপ্তম পর্ব।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 08:01 PM Jul 20, 2026Updated: 08:01 PM Jul 20, 2026

শিলিগুড়ি : উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (North Bengal Medical College) কি ভবঘুরে ও পরিত্যক্ত রোগীদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’! প্রশ্নটি নতুন নয়, দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার পর সেটি ফের সামনে এসেছে। জরুরী বিভাগের সামনে সিসি ক্যামেরা, নিরাপত্তারক্ষী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা থাকা সত্ত্বেও বারবার কেমন করে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে সেই গুঞ্জনও নেহাত কম নেই। শুধু কি তাই! উত্তরবঙ্গবাসীর ভরসা ওই আরোগ্য নিকেতনের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে দীর্ঘ লাইন, পরিষেবার বিলম্ব, আল্ট্রাসাউন্ড ও সিটি স্ক্যানের মতো পরীক্ষার জন্য হাপিত্যেশ করে অবশেষে বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়া, চিকিৎসার মান, চিকিৎসক-নার্সদের ব্যবহার, অবহেলা, দালালরাজ নিয়েও ভুক্তভোগীদের তিক্ত অভিজ্ঞতার বহর নেহাত কম নেই। চিকিৎসায় ব্যাতিক্রমী কিছু সাফল্যের নমুনা থাকলেও নেতা-মন্ত্রীদের সুপারিশ ছাড়া এখানে চিকিৎসা পাওয়া দুর্লভ– বাম ও তৃণমূল জমানার ওই মিথ আজও অক্ষত।

Advertisement

কেন হবে না? জুলাই মাসের গোড়ায় চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে  উত্তেজনা চরমে ওঠে। তবে এমন অভিযোগ অনেকটা গা সয়ে যাওয়ার মতো এখন। হাসপাতালের অলিন্দে কান পাতলে প্রতি সপ্তাহে শোনা যাবে। তাই সাময়িক শোরগোল হলেও ভুলে যাওয়াটা হয়েছে দস্তুর। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মরণের পরও রেহাই নেই এখানে। দেহ ময়নাতদন্ত করাতে গেলে তৃণমূল জমানার সিন্ডিকেটের মুখে পড়তে হচ্ছে। সেখানে ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’। চলতি মাসের গোড়ায় দার্জিলিংয়ের এক বাসিন্দাকে তাঁর আত্মীয়ের দেহের ময়নাতদন্ত করাতে এসে মোটা অঙ্কের টাকা মেটাতে হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে মৃতের বাড়ির লোকজন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে জানানোর পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেন। পরে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

ইতিমধ্যে কর্তব্যরত চারজন চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যে অসহায় মানুষেরা বিধায়ক, সাংসদ পর্যন্ত  পৌঁছাতে পারেন না সরাসরি তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কি একই ব্যবস্থা নেবেন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? উত্তর মেলেনি। বিস্তর অভিযোগ রয়েছে পরিষেবার মান নিয়েও। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের বাসিন্দা স্বপন বর্মণ ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য বহির্বিভাগ ও জরুরী বিভাগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমতো ক্লান্ত। তাঁর অভিজ্ঞতা, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঠিকঠাক পরিষেবা পাওয়া লটারির মতো। কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে লাভ হয় না। উলটে ধমক খেতে হয়। আল্ট্রাসাউন্ড ও সিটি স্ক্যানের মতো পরীক্ষা করতে হলে সর্বনাশ। অনেক ঠেলে গুঁতিয়ে যাও বা পরীক্ষা হল রিপোর্ট নেই। কারণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মেলে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement