shono
Advertisement
Dr. GS Yonzone

ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা, 'অর্কিড ম্যান' ইয়নজোনের পদ্মশ্রী সম্মানে উদ্বেলিত দার্জিলিং-কালিম্পং

একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, প্রকৃতি রক্ষায় নিবেদিত প্রাণ সর্বোচ্চ নাগরিক লাভ করায় উদ্বেলিত রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রীংলা।
Published By: Kousik SinhaPosted: 07:02 PM Jan 26, 2026Updated: 07:02 PM Jan 26, 2026

পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কালিম্পং কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ গম্ভীর সিং ইয়নজোন। আর এই ঘোষণার পর থেকেই খুশির জোয়ারে ভাসছে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়।

Advertisement

সারা জীবন পাহাড়ের গাছগাছালি নিয়ে চর্চা করেছেন ইয়নজোন। হিমালয়ের ঔষধি বৃক্ষ নিয়ে চর্চা তাঁর সাধনা। একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, প্রকৃতি রক্ষায় নিবেদিত প্রাণ সর্বোচ্চ নাগরিক লাভ করায় উদ্বেলিত রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রীংলা। তার কথায়, "তিনি একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী, শিক্ষক, পরামর্শদাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা। সারা জীবন তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।" সাংসদের মতে, ইয়নজোনের এই সম্মান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, সারা বিশ্বের গোর্খা সম্প্রদায়ের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত।

কালিম্পংয়ের সিনজি বস্তিতে ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন ইয়নজোন। তিনি হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ, ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি 'হিমালায়ন সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন। পূর্ব হিমালয়ের উদ্ভিদ নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। ২০১৭ সালে কালিম্পংয়ে একটি অর্কিড আবিষ্কার করেন গম্ভীর সিং ইয়নজোন। তাঁর সম্মানে সেই অর্কিডের নাম Zeuxine yonzoneana রাখা হয়েছে। ইয়নজোন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম চিকিৎসক মণিকুমার ছেত্রীর নামে উৎসর্গ করার প্রস্তাব জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। এছাড়াও কালিম্পং-এ প্রথম ক্যান্সার স্ক্রিনিং সেন্টার চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইয়নজোন কালিম্পং কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এছাড়াও কলকাতায় ভিক্টোরিয়া ইন্সটিটিউশনে উদ্ভিদবিদ্যা পড়িয়েছেন। তিনি হিমালয় পাবলিশিং হাউসের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময় পরিবেশ শিক্ষায় সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করেন। ইয়োনজোন ১৯৬৪ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যায় এম.এসসি এবং ১৯৭৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদ শ্রেণীবিন্যাসে পিএইচডি করেন। তিনি 'হিমালয় বিজ্ঞান সমিতি'-র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং কালিম্পংয়ের বং বস্তিতে দার্জিলিং গুডউইল অ্যানিমেল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা।

১৯৮৩ সালে লন্ডনের ব্রিটিশ কাউন্সিল অধ্যাপক ইয়োনজোনকে যুক্তরাজ্যের একজন দর্শনার্থী বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত করা হয় এবং দু'মাসের মধ্যে তিনি ব্রিটিশ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর, কিউ বোটানিক গার্ডেন, এডিনবার্গ রয়েল বোটানিক গার্ডেন এবং রিডিং বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। যেখানে তিনি উদ্ভিদ শ্রেণীবিন্যাস এবং বাস্তুবিদ্যার অধ্যাপক ভিএইচ হেইউডের সঙ্গে কাজ করেন। ১৯৯৩ সালে অধ্যাপক ইয়োনজোন দার্জিলিংয়ের প্রথম হিলম্যান হন যিনি ভারতে ফুলব্রাইট ইউনাইটেড স্টেটস এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন হিসেবে নির্বাচিত হন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement