কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি জঙ্গলে এবার এক জোড়া ‘ম্যালানিস্টিক লেপার্ড’ অর্থাৎ কালো চিতাবাঘের 'দুর্মূল্য' ছবি ক্যামেরাবন্দি হল। রবিবার সকালে ওই দুর্লভ ছবি প্রকাশ করেছে কার্শিয়াং বনবিভাগ। কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে জানান, ‘কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে দুটি ‘ম্যালানিস্টিক লেপার্ড’-এর দেখা মিলেছে। এর আগেও একাধিক বার কালো চিতাবাঘের দেখা মিলেছিল। নজরদারির জন্য জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তাতেই এক সঙ্গে দুটো কালো চিতার ছবি ধরা পড়েছে বলে খবর।
দুটো কালো চিতাবাঘ সম্পর্কে ভাইবোন নাকি দম্পতি সেটা লিঙ্গ নির্ধারণ অথবা গায়ের ‘স্ট্রাইপ’ দেখে নির্ধারণ করা যাবে। তবে কার্শিয়াংয়ে এর আগে এক সঙ্গে দুটো চিতাবাঘের দেখা মেলেনি। এর আগে গত বছর ২৩ জানুয়ারি ভোরে কার্শিয়াং বনবিভাগের অধীন চিমনি থেকে বাগোরা যাওয়ার রাস্তায় কালো চিতাবাঘ দেখেন এক গাড়ি চালক। এরপর ১৭ জুন দার্জিলিং পাহাড়ের মানেভঞ্জন–সুখিয়াপোখরি রোডে কালো চিতাবাঘ অর্থাৎ ম্যালানিস্টিক লেপার্ডের ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ২০২৪ সালের ৭ জুন কার্শিয়াং থেকে চার কিলোমিটার দূরে চিমনি এলাকার রাস্তা পারাপারের সময় কালোচিতার দেখা মেলে। এরপর ১৫ অক্টোবর কার্শিয়াংয়ের চিমনি থেকে বাগোরা যাওয়ার রাস্তায় কালোচিতা বের হয়।
পরদিন ১৬ অক্টোবর ফের কালো চিতার দেখা মেলে গিমিকে। শুধু কার্শিয়াং নয়। দার্জিলিং, মিরিক, মানেভঞ্জনেও কালোচিতার গতিবিধি ধরা পড়েছে। এদিকে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শৈলশহরের চিত্রে বাজারের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় একটি পূর্ণবয়স্ক কালো চিতাবাঘ পথচারীদের নজর কাড়ে। এরপর ওই বছরের নভেম্বর মাসে মিরিকে দেখা মেলে কালোচিতা। এর আগে ২০২০ সালে মিরিকের ওকাইতি চা বাগানের নয় নম্বর ডিভিশনের কাছে রাস্তা পারাপারের সময় কালো চিতাবাঘের দেখা মেলে। ২০২২ সালে মানেভঞ্জন সংলগ্ন এলাকা থেকে কালো চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার হয়। দার্জিলিংয়ের ধোত্রে-শিলিগুড়ি রোডেও মৃত কালো চিতাবাঘ উদ্ধার হয়েছিল।
এছাড়াও কার্শিয়াং বনবিভাগের চিমনি থেকে বাগোরা যাওয়ার রাস্তায় কালো চিতাবাঘ দেখেন এক গাড়িচালক। তিনি বুনোটিকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরাবন্দি করেন। এরপর সেই ছবি একইভাবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। কার্শিয়াং থেকে চার কিলোমিটার দূরে চিমনি এলাকাতেও রাস্তা পারাপারের সময় কালোচিতার দেখা মেলে। দার্জিলিং, মিরিক, মানেভঞ্জনেও কালোচিতার গতিবিধি ধরা পড়েছে। এই প্রাণীটি ঘন জঙ্গলে থাকে না। সাধারণত লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকায় দেখা যায়। বনদপ্তরের কর্তারা জানান, কালো চিতাবাঘকে অনেকেই 'ব্ল্যাক প্যান্থার' ভেবে ভুল করেন। আদতে জেনেটিক কারণে চিতাবাঘের শরীরে কালো রঙের পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি মেলানিস্টিক রঙের সাধারণ চিতাবাঘ। দার্জিলিংয়ে এই ধরনের চিতাবাঘের দেখা মেলা অস্বাভাবিক নয়। কারণ এই অঞ্চলে ওই প্রাণীদের আবাসস্থল রয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ে কালো চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ওই বুনোদের গতিবিধি জানতে বিভিন্ন জায়গায় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেখানেই সম্প্রতি জোড়া কালো চিতাবাঘ ধরা পড়েছে।
