'অশোক চক্র' পেয়েছিলেন ভারতের প্রথম নভশ্চর রাকেশ শর্মা। সেই সম্মান পেতে পারেন শুভাংশু শুক্লাও। যদিও এ ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।
গত বছর ২৫ জুন স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানে চড়ে আইএসএসের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন শুভাংশুরা। তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন অ্যাক্সিয়ম-৪-এর ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজনিউস্কি এবং টিবর কাপু। সেই মহাকাশ যাত্রায় শুভাংশুর কাছে দেখা গিয়েছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতে তাঁর হাতে সেই পতাকা তুলে দিয়েছিলেন শুভাংশু।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে দিন ২০ কাটানোর পরে এই গত বছর শেষের দিকে কলকাতায় এসেছিলেন বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু। আইসিএসপি-তে শুভাংশু শুক্ল প্যাভিলিয়নের উদ্বোধনে মহাকাশচারী বলেছিলেন, "পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সারা ক্ষণ আমাদের গ্রহটার অনেকটা একসঙ্গে দেখতে পারছিলাম! দিনে ১৬ বার সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত দেখেছি। কিন্তু একঘেয়ে লাগেনি’’। তাঁর কথায়, ‘‘এই প্রথম মনে হল, আলাদা করে কোনও শহর বা দেশ নয়, আস্ত পৃথিবীটাই আমার পরিচয়। মহাকাশে গেলেই এটা বোঝা যাবে।’’
ভারতের গগনযান অভিযানের সঙ্গেও যুক্ত শুভাংশু। সম্প্রতি ইসরো জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে দু’-এক বছরের মধ্যেই মহাকাশে নভশ্চর পাঠাবে ভারত। গগনযানে সওয়ার হয়ে মহাকাশে পাড়ি দেবেন চার নভশ্চর— বালাকৃষ্ণন নায়ার, অঙ্গদ প্রতাপ, অজিত কৃষ্ণন এবং শুভাংশু। এই প্রকল্প যদি সফল হয়, তা হলে নিজস্ব প্রযুক্তিতে মহাকাশে নভশ্চর পাঠানোর দৌড়ে আমেরিকা, রাশিয়া, চিনের পরে চতুর্থ দেশ হিসাবে নাম জুড়বে ভারতের।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে ইসরোর প্রথম মনুষ্যবাহী গগনযান প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইসরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান কে সিভন জানিয়েছিলেন, ২০২২ সালে ওই অভিযান হবে। মহাকাশের ৪০০ কিলোমিটার কক্ষপথে মানুষকে পাঠানোর যে পরিকল্পনা, তার অঙ্গ হিসাবে পরীক্ষামূলক ভাবে মহাকাশে মানববিহীন গগনযানও পাঠায় ইসরো। মহাকাশচারীদের মহাকাশে পাঠানোর পর কী ভাবে তাঁদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায়, খুঁটিয়ে দেখা হয় তা-ও। তার পর থেকে অবশ্য ক্রমশই পিছিয়েছে গগনযানের উৎক্ষেপণ।
