দেব গোস্বামী, বোলপুর: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকেও ভারতের নাগরিকত্বের প্রমান দিতে হবে? মঙ্গলবার ভরা জনসভায় তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে একথা শুনে ক্ষুব্ধ বোলপুরবাসী। এদিন রামপুরহাটের জনসভা থেকে বললেন, ''অমর্ত্য সেনকেও শুনানির নোটিস পাঠিয়েছে! ভাবুন, দেশের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতে আসা ব্যক্তিত্বকেও এরা হেনস্তা করতে ছাড়েনি।" তবে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্তারা মুখে কুঁলুপ এঁটেছেন।
অমর্ত্য সেন বর্তমানে রয়েছেন বিদেশে আমেরিকার বোস্টন শহরে। ভারতের নাগরিক হওয়ায় তিনি নির্দিষ্ট সময়েই এনুমারেশন ফর্ম জমা করেছেন। তাহলে কী কারণে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হল? নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘এটা রিভেরিফাই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি"। কমিশন সূত্রে খবর, বিএলও অর্মত্য সেনের শান্তিনিকেতনে প্রতীচী বাড়িতে যাবেন। সেখানেই এসআইআর-এর শুনানি হবে। তবে এখনও পর্যন্ত অমর্ত্য সেনের কাছে কোনও নোটিস পৌঁছয়নি। তবে ২০২৫-র তালিকায় ১৬১ নম্বরে নাম ছিল অমর্ত্য সেনের। যে খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়েছে এনুমারেশন পর্ব শেষে তাতে ২৮৬-বোলপুর বিধানসভার ৫নং অংশের ১৬৯ নম্বরের রয়েছে অমর্ত্য সেনের নাম।
নির্বাচনের কাজে যুক্ত এক ইআরও জানিয়েছেন, ‘‘যতটুকু জানতে পেরেছি যেহেতু ২০০২ সালের তালিকায় অর্থনীতিবিদের নাম ছিল না, তাই তিনি মায়ের নথি দিয়েছে বংশক্রমের মিল দেখিয়ে এনুউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। সেখানেই হয়ত নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। মা অমিতা সেনের সঙ্গে অমর্ত্য সেনের বয়সের ফারাক পনেরো বছরের নিচে হওয়ায় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় ‘রিভেরিফাই’র আওতায় এসেছে। তার জন্যই হয়ত শুনানির নোটিস পেতে পারেন নোবেলজয়ী।’’
১৯৩৩ সালে জন্ম হয় অমর্ত্য সেনের। সেই সময় অমিতা সেনের বয়স কত ছিল, সেই প্রশ্নেই জটিলতার জন্ম দিয়েছে এসআইআর পর্বে। অমর্ত্য সেনের 'প্রতীচী' বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকন্ঠ মজুমদার বলেন, "এখনও আমরা কোনও শুনানির নোটিস পাইনি। নানামহল থেকে খবর আসছে। যদি তাইই হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
