সৌরভ মাজি, বর্ধমান: জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট খুললেই আসছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহাস্য ছবি। আর সেখানে মোদি সরকারের ৪৮ মাসের সাফল্যের খতিয়ান। অজান্তে অনেকেই ক্লিক করছেন। পাশের ট্যাবে খুলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি। যা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে বিভিন্ন মহলে।রাজ্য প্রশাসনের ওয়েবসাইটে কেন এইভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তির কথা ফুটে উঠছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলাশাসক।
[স্কুলের মধ্যেই নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, চাঞ্চল্য মালদহে]
সাবেক বর্ধমান জেলা থাকাকালীন প্রশাসনের একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট ছিল। জেলা ভাগের পরেও সেটিই থাকে। পরে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের নতুন ওয়েবসাইটও চালু করা হয়। তবে পুরনোটিও রাখা হয়। পুরনো সাইটটি খুলেও নতুন সাইটটি মিলছে। কিন্তু তার আগে মোদি সরকারের উন্নয়নের প্রচারের ওই সাইটটি চলে আসছে ‘পপ-আপ’ করে। পুরনো ওয়েবসাইটের নাম ব্রাউজারে লিখলে সাইটটি খুলছে। তার পর স্ক্রিনে ভেসে উঠছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহাস্য হাত নাড়ার ছবি। পাশে লেখা ‘৪৮ মান্থস অফ ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া-সাফ নিয়ত, সহি বিকাশ’। আর তাতে ক্লিক করলেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের খতিয়ান সামনে আসছে। এখানেই আপত্তি তুলেছেন অনেকে। রাজ্যের একটি জেলার প্রশাসনের ওয়েবসাইট। রাজ্যের উন্নয়নের ফিরিস্তি থাকলেও কথা ছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশও মোদির ফিরিস্তি থাকা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান বলেন, “এটা কাম্য নয়। রাজ্য প্রশাসনের ওয়েবসাইটে এইভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নের প্রচারের সাইট না থাকাই উচিত। জেলা প্রশাসন নিশ্চয় উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের প্রচার থাকলে কিছু বলার ছিল না। আাদতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হচ্ছে এখানে তাই থাকাই উচিত।” তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো সাইট খুললে আসছে মোদির গুণগান। তবে তার পাশে ক্রস চিহ্ন রয়েছে। সেখানে ক্লিক করলে সাইটটা সরে যাচ্ছে। তারপর প্রসিড লেখায় ক্লিক করলে পূর্ব বর্ধমান জেলার সাইটটাই খুলছে।
[কয়েক শতক পরেও উচ্ছাসে পড়েনি ভাটা, কেমন ছিল মাহেশ-মহিষাদলের রথযাত্রা?]
জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, পুরনো সাইটের ক্ষেত্রে এমনটা হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে নতুন সাইটে এমনটা হচ্ছে না।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনের ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার। যা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। তাদের মাধ্যমেই এটা করা হচ্ছে কি না তা খোঁজ নিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক বলেন, “ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ছবি: মুকুলেসুর রহমান
The post জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট খুলতেই সহাস্য মোদি, বিতর্ক তুঙ্গে appeared first on Sangbad Pratidin.
