স্ত্রী ও দুই কন্যাকে 'খুন' করে কম্বল চাপা! দুর্গন্ধ বের হতে 'আত্মঘাতী' স্বামী! মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার হাড়হিম ঘটনা (Bhagawangola Murder Case) ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে চলছে জোর কাটাছেঁড়া। তদন্তে নেমে বিস্ফোরক তথ্য পেল পুলিশ। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মানিক ব্যাপারী ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। নতুন ধর্মাচরণ করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতানৈক্য চলছিল। স্ত্রী দোলাদেবী স্বামীর এই সিদ্ধান্ত কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। এমনকি দুই মেয়েও মায়ের পাশে ছিল। এই নিয়ে তাঁদের দাম্পত্য কলহ চলছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। সপরিবারে এই মৃত্যুর ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
মৃত মানিক ব্যাপারী পেশায় ফল বিক্রেতা ছিলেন। নদিয়ার বাসিন্দা ছিলেন মানিক ব্যাপারী। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ভগবানগোলা থানার কালুখালী এলাকায় বসবাস করতেন। দশ মাস আগে ভগবানগোলার হায়দার আলি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দয়ানগর-কুঠিবাড়ি এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে মানিক পরিবারকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন। ভগবানগোলার স্বপনগড় মোড়ের কাছে একটি ফলের দোকান ছিল তাঁর। সেই দোকানটি বেশ ভালোই চলত বলে এলাকাবাসীদের দাবি। স্থানীয়দের অনুমান ব্যাপারী পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা ছিল না। সম্ভবত অন্য কোনও কারণে মানিক নিজের স্ত্রী ও কন্যা সন্তানদের খুন করেছেন।
পুলিশের অনুমান, সম্ভবত মৃতদেহগুলি অন্যত্র সরানোর সাহস পাননি মানিক। দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন ওই ব্যবসায়ী। ভগবানগোলা থানার দয়ানগর-কুঠিবাড়ি আমবাগান এলাকার এই ঘটনা ঘিরে ধোঁয়াশা বাড়ছে। স্থানীয় স্বপনগড় এলাকাতেই মানিকের ফলের দোকান ছিল বলে খবর। বুধবার সকালে ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ পান স্থানীয়রা। ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া মেলেনি। সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায় হাড়হিম ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘরের মেঝেয় চাপ চাপ রক্ত শুকিয়ে ছিল! কম্বল চাপা দেওয়া অবস্থায় রয়েছে স্ত্রী ও দুই কন্যার মৃতদেহ। দেহগুলি একে অপরের উপর কার্যত চাপানো ছিল। তিনজনেরই গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা হয়েছে বলে খবর। ওই ঘরেই সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় মানিককে। ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ওই এলাকায় ভিড় করে স্থানীয়রা। পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কার্যত গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা যায়। একে একে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের অনুমান, নিজের স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে খুন করে মানিক ব্যাপারী আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু কী কারণে পরিবারের সকলকে খুন করে মানিকবাবু আত্মঘাতী হলেন, সেই বিষয়ে এখনও ধন্দে রয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরিবারটি সম্ভবত মানসিক অবসাদে ভুগছিল। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় এলাকায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, দেহগুলো দেখে তাঁদের অনুমান মানিকবাবু নিজের স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে সম্ভবত দিন দুয়েক আগেই খুন করেছিলেন। তিনটি দেহে পচন ধরতে শুরু করেছে বলেও অনেকে দাবি করেছেন। তবে ওই এলাকার কিছু বাসিন্দা দাবি করেছেন, মানিক ব্যাপারীকে মঙ্গলবারও এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। সপরিবারে এই মৃত্যুর ঘটনায় সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
