বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন ও আশ্রম চত্বরে অনুমতি ছাড়াই প্রবেশে দেশের সাংবিধানিক পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ। ফের বিতর্কে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সরব হয়েছেন আশ্রমিকরা। উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্র ভবন ও আশ্রম চত্বর পরিদর্শনে প্রবেশমূল্য ছাড় সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, সামরিক প্রধান ও রাষ্ট্রদূতদের মতো মোট ১০৬টি উচ্চপদস্থ পদমর্যাদার সাংবিধানিক প্রধানদের কোনও প্রবেশমূল্য ছাড়াই রবীন্দ্রভবন মিউজিয়াম ও ঐতিহ্যপূর্ণ আশ্রম এলাকার হেরিটেজ ওয়াক পরিদর্শন করতে পারবেন।
আর এই বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশ্বভারতীর ইতিহাসে এই প্রথম এভাবে নির্দিষ্ট পদাধিকারীদের নাম উল্লেখ করে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল। প্রাক্তনী ও প্রবীণ আশ্রমিকদের দাবি, অতীতে দেশের ও বিদেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনেই শান্তিনিকেতন পরিদর্শন করেছেন। সেক্ষেত্রে কখনও আলাদা করে এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। দেশের সাংবিধানিক প্রধানরা আসবেন এটি স্বাভাবিক নিয়ম। তবে এমন বিজ্ঞপ্তি বিভ্রান্তিকর। যা শালীনতার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রবীণ আশ্রমিক তথা ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “দেশের সাংবিধানিক প্রধান পদাধিকারীদের সর্বত্রই প্রবেশে কোনও বাধা নিষেধ নেই। বিশ্বভারতীতেও এতদিন কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ দেখা যায়নি। নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আনা শোভনীয় নয়।”
প্রবীণ আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদার বলেন, ‘‘উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা স্বাভাবিক নিয়মেই শান্তিনিকেতনে আসেন পরিদর্শন করেন। নতুন করে তাঁদের নাম উল্লেখ করে প্রবেশমূল্য ছাড়ের তালিকা প্রকাশ করাকে অপ্রয়োজনীয় ও বিভ্রান্তিকর।’’ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের অনুমোদনক্রমে পূর্ববর্তী সমস্ত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন বলেন, ‘‘এখনও বিজ্ঞপ্তিটি দেখিনি। তবে আগেও এই ধরনের পদমর্যাদার ব্যক্তিদের প্রবেশে কোনও বাধা ছিল না। তাঁদের পদমর্যাদার কারণেই সর্বত্র এই সুবিধা দেওয়া হয়।” শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, “এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি বিভাজনের ইঙ্গিত। বিশ্বভারতী একটি বিশেষ হেরিটেজ এলাকা হলেও, নির্দিষ্ট পদমর্যাদার মানুষদের জন্য আলাদা করে নিয়ম দেখানোর কোনও যুক্তি নেই।
