ধীমান রায়, কাটোয়া: ধানের বস্তার আড়ালে লুকিয়ে লরিতে নিয়ে আসা হয়েছিল ঝাড়খণ্ড থেকে। এরপর চালের বস্তার আড়ালে লুকিয়ে অন্য একটি লরিতে চাপিয়ে সেগুলি বাংলাদেশ পাচারের পরিকল্পনা ছিল। প্রায় কোটি টাকার মূল্যের নিষিদ্ধ ফেনসিডিল পাচারের আগেই হাতেনাতে ধরে ফেলল পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে ভাতারের ছয় মাইল এলাকা থেকে ভাতার থানার পুলিশ প্রচুর পরিমাণে ফেনসিডিল সিরাপ আটক করেছে। দুটি লরি এবং একটি চার চাকা গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে। পুলিশ জানায় ধৃতের নাম দীপ বিশ্বাস। তার বাড়ি অসমে। ধান ও নিষিদ্ধ ফেনসিডিল সিরাপ বোঝাই লরির সঙ্গে ছিল ওই যুবক। পুলিশ অন্যান্যদের ধরার আগেই বাকিরা মাঠ দিয়ে ছুটে পালিয়ে যায়।
ভাতারের ছয় মাইল বাসস্ট্যান্ড ও গর্দানমারি গ্রামের মাঝামাঝি এলাকায় রয়েছে একটি চিঁড়েমিল। এই চিড়েমিলের গায়েই রয়েছে একটি গোডাউন। দেওয়ানদিঘি এলাকার চামারদিঘি গ্রামের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী তার গোডাউন ভাড়া খাটান। জানা গিয়েছে এদিন সকাল থেকেই দুটি লরি ওই গোডাউনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর পর দুপুর নাগাদ সূত্র মারফত পুলিশের কাছে খবর আসে বেশকিছু লোকজন মিলে ধানবোঝাই লরির ভিতর থেকে প্রচুর পেটি আর একটি লরিতে চাপাচ্ছে। দ্বিতীয় লরিতে রয়েছে কিছু চালের বস্তাও। ঘটনার সময় একটি সাদা রঙের চারচাকা গাড়ি ওই লরিদুটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ওই গোডাউনের সামনের কিছুটা অংশ প্রাচীর দিয়ে ঘেরা রয়েছে।
[আরও পড়ুন: ‘যৌনসুখ ঈশ্বরের উপহার’, ভ্যাটিকানে বললেন পোপ ফ্রান্সিস]
একটি লরি থেকে আর একটি লরিতে পেটিগুলি চাপানোর বিষয়টি গোপনীয়তার সঙ্গেই করছিল ওই লোকজন। স্থানীয় এলাকা থেকে এই সন্দেহজনক বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশের কাছে খবর আসতেই ভাতার থানার ওসি পঙ্কজ নস্করের নেতৃত্বে পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ দেখেই দুটি লরি ও ওই চারচাকা গাড়িতে থাকা লোকজন পেটি ও বস্তা ফেলেই মাঠে মাঠে ছুটে পালিয়ে যায়।
পুলিশ একজনকে ধরে ফেলে। ধৃত ব্যক্তি পুলিশের কাছে জানায় একজনের নির্দেশমতো ওষুধের পেটিগুলি একটি লরি থেকে আর একটি লরিতে চাপানো হচ্ছিল। পুলিশ খবর দেয় ভাতারের বিডিও দেবজিৎ দত্তকে। বিডিও তথা ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে চলে আসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএসপি (ক্রাইম) শাশ্বতী শ্বেতা সামন্ত, সিআই সাধন বন্দ্যোপাধ্যায়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুটি গাড়িতেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দেখতে পায় প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল সিরাপ লরি দুটিতে রয়েছে।
পুলিশ জানতে পেরেছে ঝাড়খণ্ড থেকে ৪৭০ পেটি ফেনসিডিল সিরাপ একটি লরিতে ধানের বস্তার আড়ালে নিয়ে আসা হয়েছিল ভাতারের এই গোডাউনের সামনে। সেখানে লরিটি দাড় করিয়ে অন্য একটি লরিতে চাপিয়ে চালের বস্তা দিয়ে আড়াল করে লরিটি বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তারপর সেগুলি বাংলাদেশে পাচারের ছক ছিল। সাদা রঙের চারচাকা গাড়িতে চেপে থাকা কয়েকজন বিষয়টি তদারকি করছিল। আর একটি লরি থেকে আর একটি চাপানোর সময় পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলে। পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন এই চক্রে কারা জড়িত রয়েছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
