ঋণ নিয়ে জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলনও এবার অন্যান্যবারের থেকে ভালো হয়েছে। আলুর দাম পাচ্ছিলেন না। 'হতাশা'য় আত্মহত্যা করলেন এক আলু চাষি! ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির গোঘাটে (Goghat)। মৃতের নাম বাপন সুর। প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যে আরও দু'জন চাষি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর। এই মরশুমে রাজ্যে আলুর ফলন ভালো হয়েছে। রাজ্য সরকার চাষিদের থেকে আলু কেনার কথা ঘোষণাও করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপন এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। দলের কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যেত। এবারও ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সেজন্য চড়া সুদে ঋণও নিয়েছিলেন। এবার রেকর্ড ফলন হয়েছে রাজ্যজুড়েই। আলুর দামও খোলা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে চাষিদের অভিযোগ। দাম এই মুহূর্তে কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপন গত বছর ৫০ থেকে ৬০ গাড়ি আলু ঋণ নিয়ে হিমঘরে রেখেছিলেন। সেই আলু বস্তা প্রতি ৭০ টাকা হিসাবে বিক্রি হয়েছে। ফলে অনেক টাকা লোকসান হয়েছিল তাঁর। এবারও আলুর দাম তলানিতে। কীভাবে টাকা শোধ করবেন? তাই নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি।
নিজের ঘরে তাঁকে গলায় দড়ি ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারের। বাপনের পাঁচ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তাঁকে কীভাবে বড় করা হবে? কীভাবে সংসার চলবে? সেই নিয়ে দুশ্চিন্তায় মৃতের স্ত্রীর। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
রাজ্যজুড়ে এবার আলুর অতিরিক্ত ফলন। দাম পাওয়া নিয়ে বিপাকে আলু চাষিরা। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ‘পটেটো প্রোকিওরমেন্ট স্কিম’ ঘোষণা করে চাষিদের থেকে সরাসরি আলু কিনবে সরকার। হিমঘরের মালিকরা যাতে আলু কিনতে পারেন সেজন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণের বিষয়টিও সরল করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আলু রাজ্য সরকার নিজে কিনে নেবে। আমরা কথা বলেছি। যেখানে যেখানে আলু পড়ে আছে সেখানে দেখে সরকার কিনে নেবে।”
