গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কিন্তু আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। যতবার ক্ষমতায় আসবে, তত বেশি কাজ করবে শাসকদল। যেমন সরকারি স্তরে, তেমনই দলের অন্দরেও। মানুষের জন্য কাজ ছাড়া কথা নেই এই দলে। বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছেন, পারফরম্যান্সই শেষ কথা। যে কাজ করবে, দল তার পাশে থাকবে। জনতার কাজ না করলে দলে ঠাঁই নেই। সেই ফর্মুলাতেই ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হল। স্রেফ ইমেজ বা মুখের উপর ভরসা নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা। আর তাই মন্ত্রীও এবার বাদ পড়লেন ভোটের লড়াই থেকে। হিসেব বলছে, তৃণমূলের ঘোষিত ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৪ জন বিধায়কের টিকিট হাতছাড়া হয়েছে। আসন বদল করে নতুন করে পরীক্ষার মুখে ফেলা হয়েছে অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে।
মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ি থেকে ছাব্বিশের ভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে বাদ পড়েছেন অন্তত দুই মন্ত্রী -
- বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক তথা খাদ্যদপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর উপর আর ভরসা রাখেনি শাসক শিবির। এবার তাঁকে কোনও আসনেই প্রার্থী করেনি দল।
- বিশিষ্ট ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি শিবপুরের বিধায়কের পাশাপাশি ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও। তিনিও এবার ভোটের টিকিট পেলেন না।
তবে এদিন প্রার্থী ঘোষণার সময় তৃণমূল সুপ্রিমো এও জানিয়েছেন, ''যাঁদের নাম নেই প্রার্থী তালিকায়, তাঁরা মনখারাপ করবেন না। তাঁদের অন্য কাজে আমরা নিযুক্ত করব। সব কাজেই সবাইকে লাগবে।'' ৫ বছরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অন্তত ৭৪ জন বিধায়ক বাদ পড়লেন ছাব্বিশের লড়াই থেকে। এর মধ্যে -
- দুর্নীতি মামলায় জেলফেরত তিন বিধায়ক - পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মানিক ভট্টাচার্য যে প্রার্থী হচ্ছেন না, তা আগেই জানা গিয়েছিল। অন্যদিকে, কারাবাস করলেও পারফরম্যান্স আর অভিজ্ঞতার নিরিখে দল একমাত্র ভরসা রেখেছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের উপর। তাঁকে ফের হাবড়া থেকে প্রার্থী করা হয়েছে।
- এদিকে, তারকা বিধায়কদের মধ্যে বাদ পড়েছেন উত্তরপাড়ার কাঞ্চন মল্লিক। বিধায়ক হিসেবে কাজে গাফিলতির পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে নানা বিতর্কও ছিল। সেই কারণে এবার তাঁর উপর আর ভরসা রাখেনি দল।
- ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে থাকছেন না আরেক তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীও। তিনি নিজেই অব্যাহতি চেয়েছিলেন।
- বাদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম মালদহের দুই পুরনো বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী ও সাবিত্রী মিত্র। মালদহে এঁদের মধ্যে চাপা দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছিল বারবার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সতর্কও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও বিশেষ কাজ হয়নি। গত ৫ বছরের দুই বিধায়কের পারফরম্যান্সে না-খুশ শাসক শিবির। তাঁরা এবার আর টিকিট পেলেন না।
- প্রার্থী তালিকায় নেই আমডাঙার 'বিচারাধীন' বিধায়ক রফিকুর রহমানের নামও।
- জোড়াসাঁকো থেকে বিবেক গুপ্তা, এন্টালি থেকে স্বর্ণকমল সাহা, মানিকতলা থেকে সুপ্তি পাণ্ডে বাদ পড়েছেন এবার।
- টিকিট মেলেনি রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীরও।
- চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদারও টিকিট পাননি এবার।
- অসুস্থতার কারণে এবার নির্বাচনী লড়াই থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন বেলেঘাটার দীর্ঘদিনের বিধায়ক পরেশ পাল। সেকথা মাথায় রেখে তাঁর বদলে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে।
নতুন করে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যের আরেক মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। ঝাড়গ্রাম থেকে সরিয়ে এবার বিনপুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। আসন বদলেছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক বিদেশ বসু, উলুবেড়িয়া উত্তরের ডাঃ নির্মল মাজি, চণ্ডীপুরের তারকা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর। ছাব্বিশে বিদেশ বসু লড়বেন হুগলির সপ্তগ্রাম থেকে, নির্মল মাজি হলেন গোঘাটের প্রার্থী। আর সোহম লড়বেন নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্র বদলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের সংগঠক নেতা, বিধায়ক উত্তম বারিকের। পটাশপুরের বদলে তিনি লড়বেন চণ্ডীপুর থেকে।
নতুন করে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যের আরেক মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। ঝাড়গ্রাম থেকে সরিয়ে এবার বিনপুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। আসন বদলেছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক বিদেশ বসু, উলুবেড়িয়া উত্তরের ডাঃ নির্মল মাজি, চণ্ডীপুরের তারকা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর। ছাব্বিশে বিদেশ বসু লড়বেন হুগলির সপ্তগ্রাম থেকে, নির্মল মাজি হলেন গোঘাটের প্রার্থী। আর সোহম লড়বেন নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্র থেকে। কেন্দ্র বদলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের সংগঠক নেতা, বিধায়ক উত্তম বারিকের। পটাশপুরের বদলে তিনি লড়বেন চণ্ডীপুর থেকে। সবমিলিয়ে দক্ষ সংগঠক এবং পারফরমারদের উপরই আস্থা রেখেই ভোটযুদ্ধের সৈনিক বেছে নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। ফের নির্বাচনী ময়দানে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৩৫ জনকে বিধায়ককে।
