তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হল আজ, মঙ্গলবার। উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ দেখা গিয়েছে। পুরনো মুখ, বেশ কিছু বিধায়ক এবার টিকিট পেলেন না। প্রার্থী হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই সামনে এলেন দক্ষ সাংগঠনিক নেতারা। সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভোটে জেতার লক্ষ্যেই কি এই বদল? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
উত্তরবঙ্গ রাজনৈতিকভাবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ একাধিক জায়গায় বিজেপি গত বিধানসভা ভোটে একাধিক আসন জিতেছিল। বিজেপি বিধায়কদের বেশিরভাগ মুখ মতুয়া গড় ও উত্তরবঙ্গের বলেই খবর। সেইসব আসন ধরে রাখতে এবারও মরিয়া বিজেপি। এদিকে তৃণমূল উত্তরবঙ্গে ভালো ফল করার প্রত্যাশী। গত লোকসভা নির্বাচনে তুলনামূলক ভালো ফল করেছিল জোড়া ফুল। সেই ফল থেকে অক্সিজেন নিয়েই এবার ভালো ফলের জন্য আরও ঝাঁপাল তৃণমূল, এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আগেই উত্তরবঙ্গের মাটিতে সংগঠনকে সাজাতে কাজ শুরু করেছিল তৃণমূল। ব্লক ও সাংগঠনিক স্তরে একাধিক রদবদলও হয়েছিল দলীয় স্তরে। চা বাগানেও শ্রমিক সংগঠনকে শক্ত করতে কাজ শুরু করেছিল তৃণমূল। শুরু হয়েছিল নিবিড় জনসংযোগ। বিজেপির থেকে আসন ছিনিয়ে নিতে ঘুঁটি সাজাচ্ছিল বাংলার শাসক দল। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই উত্তরবঙ্গে একাধিক সভা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের জন্য লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন। সংগঠনে জোর দেওয়া হবে, সেই বার্তাও আগেই দেওয়া হয়েছিল।
উত্তরবঙ্গের মাটিতে সংগঠনকে সাজাতে কাজ শুরু করেছিল তৃণমূল। ব্লক ও সাংগঠনিক স্তরে একাধিক রদবদলও হয়েছিল দলীয় স্তরে। চা বাগানেও শ্রমিক সংগঠনকে শক্ত করতে কাজ শুরু করেছিল তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, জেলার বিধানসভার পাঁচ আসনেই দলীয় সংগঠকদের প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস। আলিপুরদুয়ার বিধানসভাতে বিজেপি থেকে আসা বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ভোটে লড়াইয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে সুমনের। অন্যদিকে ফালাকাটা কেন্দ্রের সুভাষচন্দ্র রায়কে প্রার্থী করা হয়েছে। সুভাষবাবু আগে বিধানসভা ভোটে লড়ে হেরেছিলেন। তিনি একসময় ফালাকাটা ব্লকের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। কালচিনিতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে দলের চা শ্রমিক সংগঠনের দক্ষ সংগঠক বীরেন্দ্র বরাকে। মাদারিহাট উপনির্বাচনে জয়ী বিধায়ক জয়প্রকাশকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কুমারগ্রামে এবার রাজীব তিরকে প্রার্থী হয়েছেন। রাজীব নতুন মুখ হলেও গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করে জেতা প্রার্থী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির। প্রার্থী ঘোষণার পরেই জেলার পাঁচ আসনেই এবার দল জয়লাভ করবে বলে দাবি করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক।
কোচবিহারে এবার টিকিট পেলেন না রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এবার জেলায় প্রার্থী হিসেবে নতুন মুখ সাবলু বর্মণ, শৈলেন বর্মা, শিবশঙ্কর পাল, হরিহর দাস। জলপাইগুড়িতেও এবার মুখ বদল হয়েছে। রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনের চারবারে বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তিনি এবার টিকিট পেলেন না। এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণ এবার ওই কেন্দ্রে প্রার্থী। উত্তরবঙ্গে তৃণমূল ভালো ফল করবে। এই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশ।
