পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড় চমক দেখা গেল। লালমাটিতে এবার নির্বাচনের এবার অর্ধেক আসনে প্রার্থী বদল করল জোড়াফুল। জেলার মধ্যে দাঁতন, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়, দাসপুর, চন্দ্রকোণা, ঘাটালে প্রার্থী বদল করে দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোয় জোর দিয়ে ভালো ফলের লক্ষ্যে এই বদল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ। এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে দলের প্রার্থী তালিকা (TMC Candidate list 2026) ঘোষণা করেন। ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৫টি বিধানসভা রয়েছে। তালিকা বেরতে দেখা গেল, সাতজনকে সরিয়ে সেসব জায়গায় নতুন মুখ আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ঘাটাল মহকুমার তিনটি আসনেই প্রার্থী বদল করে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের মধ্যে দু'জনই ছিলেন নির্বাচিত বিধায়ক। কেন্দ্র বদল করা হয়েছে একজনের। সব মিলিয়ে নতুন পুরনো সংমিশ্রনে তৃণমূল প্রার্থী তালিকাকে ঘিরে উন্মাদনা শুরু হয়ে গিয়েছে দলের মধ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্মী-সমর্থকরা এখন থেকেই অভিনন্দনের বন্যায় ডুবিয়ে দিচ্ছেন প্রার্থীদের। প্রার্থী ঘোষণার পরই শহরে জেলা পার্টি অফিসে চলে আসেন প্রার্থীরা। তাঁদের গলায় মালা পরিয়ে, সবুজ আবির ওড়ান দলের কর্মী-সমর্থকরা।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৫টি বিধানসভা রয়েছে। তালিকা বেরতে দেখা গেল, সাতজনকে সরিয়ে সেসব জায়গায় নতুন মুখ আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ঘাটাল মহকুমার তিনটি আসনেই প্রার্থী বদল করে দেওয়া হয়েছে।
জেলার মধ্যে দাঁতন, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়, দাসপুর, চন্দ্রকোণা, ঘাটালে প্রার্থী বদল করে দেওয়া হয়েছে। আবার ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে। ডেবরায় প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে। নতুনদের মধ্যে যারা সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম প্রতিভা মাইতি। বর্তমানে জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে রয়েছেন তিনি। তাঁকে এবার নারায়ণগড়ে প্রার্থী করা হয়েছে। বাড়ি ওই এলাকাতেই। গতবার মাত্র তিন হাজার ভোটে জেতা সূর্যকান্ত অট্ট এবার টিকিট পাননি। এরই পাশাপাশি কেশিয়াড়ির বিধায়ক পরেশ মুর্মুকে সরিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে শিক্ষক নেতা রামজীবন মাণ্ডিকে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধানকেও। সেখানে ব্লক সভাপতি মানিক মাইতিকে বাছা হয়েছে।
তবে ঘাটালের তিনটি আসনেই প্রার্থী বদল করে দেওয়া হয়েছে। দাসপুরে একাধিকবারের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়্যাকে সরিয়ে জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুদাইতকে প্রার্থী করা হয়েছে। চন্দ্রকোণার বিধায়ক অরূপ ধারাও এবার টিকিট পাননি। তাঁর জায়গায় এবার টিকিট পেয়েছেন সূর্যকান্ত দলুই। আবার ঘাটাল কেন্দ্রে গতবার বিজেপির কাছে মাত্র ৭০০ ভোটে হারা শঙ্কর দলুই এবার কোনও কেন্দ্রেই টিকিট পেলেন না। ঘাটালে প্রার্থী হয়েছেন শ্যামলী সর্দার। তবে ঘাটালে পরাজিত প্রার্থী শঙ্কর দোলুইয়ের উপর দল ভরসা না করলেও খড়্গপুর সদর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এবারও পরাজিত প্রার্থী প্রদীপ সরকারের উপরই ভরসা রেখেছে দল। প্রদীপবাবু গতবার বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় চার হাজার ভোটে হেরেছিলেন।
ঘাটালের তিনটি আসনেই প্রার্থী বদল হয়েছে। দাসপুরে একাধিকবারের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়্যাকে সরিয়ে জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুদাইতকে প্রার্থী করা হয়েছে। চন্দ্রকোনার বিধায়কও এবার টিকিট পাননি। তাঁর জায়গায় এবার টিকিট পেয়েছেন সূর্যকান্ত দলুই। আবার ঘাটাল কেন্দ্রে গতবার বিজেপির কাছে মাত্র সাতশো ভোটে হারা শঙ্কর দলুই এবার কোনও কেন্দ্রেই টিকিট পেলেন না।
আবার চরম জল্পনা থাকলেও জেলার দুই রাষ্ট্রমন্ত্রী শিউলি সাহা ও শ্রীকান্ত মাহাতো নিজ নিজ কেন্দ্রেই টিকিট পেয়েছেন। পূর্ণমন্ত্রী মানস ভুঁইয়্যা এবার তার সবং কেন্দ্র থেকেই টিকিট পেয়েছেন। দুই সাংগঠনিক জেলার দুই সভাপতি যথাক্রমে সুজয় হাজরা ও অজিত মাইতিও তাদের নিজ নিজ কেন্দ্র যথাক্রমে মেদিনীপুর ও পিংলা থেকে ফের টিকিট পেয়েছেন। গড়বেতাতে এবারও টিকিট পেলেন উত্তরা সিংহ হাজরা। অজিতবাবু, সুজয়বাবুরা বলেছেন, নবীন ও প্রবীণদের সংমিশ্রনে প্রার্থীতালিকা তৈরি করেছেন দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। একদিকে যেমন দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করেননি, ঠিক তেমনই প্রবীণদের সাংগঠনিক কাজে লাগানোর বার্তা দিয়ে নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে এসেছেন। দ্রুত প্রচার শুরু হয়ে যাবে বলেও দলের তরফে জানানো হয়েছে।
