স্বাধীন ভারতে, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ (Prafulla Chandra Ghosh)। যদিও, তৎকালীন সরকারি নথি জানাচ্ছে, বিরোধীপক্ষের নেতা হোক বা বিধানসভার অধ্যক্ষ– প্রত্যেকেই তাঁকে সম্বোধন করেছেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ বলে। মোট দু’বার এই পদে আসীন হয়েছেন তিনি।
প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামীও। ১৮৯১ সালের ২৪ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার মালিকান্দায় তাঁর জন্ম। ছাত্রজীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। রসায়ন নিয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর– দুইয়েই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। স্বল্প সময়ের জন্য প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে কলকাতার টাঁকশালে ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট মাস্টার পদে আসীন ছিলেন।
মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে পাথেয় করে প্রফুল্লচন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন ‘অভয় আশ্রম’। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক রাষ্ট্রীয় সমিতি’র সম্পাদক পদ গ্রহণ করেছিলেন। লবণ সত্যাগ্রহে যোগদান করেছিলেন ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবারও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যপদে।
টাঁকশালের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে, তিনি যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। আট বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয় এই সময়ে। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে পাথেয় করে প্রফুল্লচন্দ্র (Prafulla Chandra Ghosh) নির্মাণ করেছিলেন ‘অভয় আশ্রম’। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক রাষ্ট্রীয় সমিতি’র সম্পাদক পদ গ্রহণ করেছিলেন। লবণ সত্যাগ্রহে যোগদান করেছিলেন ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবারও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যপদে।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষাবিস্তারের যে ব্যাপক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছিলেন, পরের দু’বছরের মধ্যে বাংলা ভাষাকে সরকারি ভাষারূপে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল তারই অংশ। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর তাঁর উদ্যোগে গঠিত হয় ‘বাংলা পরিভাষা কমিটি’। সে কমিটিতে ছিলেন রাজশেখর বসু, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
আজীবন গান্ধীবাদী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ লিখেছিলেন বেশ কিছু বই। আলবার্ট আইনস্টাইন, রবার্ট ওপেনহেইমারের মতো বিজ্ঞান জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ থেকে ২২ জানুয়ারি, ১৯৪৮ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলেছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি প্রয়াত হন।
