ভোটে জিতেছেন স্ত্রী। হয়েছেন প্রধান। কিন্তু পঞ্চায়েত দপ্তর চালাচ্ছেন স্বামী। 'প্রধানপতি রাজ' চলছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের বেওয়া- ২ গ্রামপঞ্চায়েতে। প্রধান স্ত্রীর সই জালেরও অভিযোগ উঠেছে ,স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রধানের বদলে সরকারি ফাইলে সই করছেন স্বামী।
গত পঞ্চায়েত ভোটে বেওয়া- ২ গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন রোজিনা বিবি। তিলডাঙার ৭ নম্বর গ্রাম সংসদের মহিলা সংরক্ষিত আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতেন তিনি। কিন্তু তিনি প্রায় অফিসেই আসেন না। বদলে প্রতিদিন দুপুরে চেয়ারে বসছেন তাঁর স্বামী ইসমাইল শেখ। আবাস যোজনা, ১২৫ দিনের কাজ, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট থেকে জাতি শংসাপএ প্রদানের নথি থেকে, রাস্তা-নালার বিল পাস-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনিই নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়াই নয়, প্রধানের নামে নামে থাকা রেজিস্টার ও চেক বইতেও তিনিই সই করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পঞ্চায়েত কর্মী বলেন, "দাদা যা বলেন তাই হয়। দিদিকে আমরা বছরে দু-একবার দেখি।"
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্হানীয় বাসিন্দারা । তাঁদের বক্তব্য, মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য সংরক্ষণ, কিন্তু বাস্তবে ক্ষমতা ভোগ করছেন পুরুষরাই। এর ফলে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ প্রসঙ্গে ফরাক্কা ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি বাসির শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তির সরকারি নথিতে সই করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আওতায় পড়ে। অবিলম্বে বিডিওকে বলব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।"
যদিও এ বিষয়ে প্রধানের স্বামী ইসমাইল শেখের সাফাই, "এখন সব কাজ অনলাইনে হয়ে গিয়েছে। প্রধানের স্বাক্ষর দরকার পরে না। কিছু জরুরি কাগজ স্বাক্ষর করার জন্য সাধারণ মানুষ আসছেন তাই আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি।" ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারি জানান, " এটা কখনও হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
