কাঞ্চনজঙ্ঘার আকাশে 'কালো মেঘ'। শান্ত পাহাড়ে ফের অশান্তির আগুন ঝরানোর চেষ্টা! উৎসবের মরশুমে যখন ম্যালে দু'দণ্ড পা ছড়িয়ে বসে বা কোনও পাহাড়ি গ্রামের হোম স্টে'তে একেবারে নিখাদ সেখানকার কৃষ্টি, খাদ্যর স্বাদ নিতে যাবেন বহু মানুষ, ঠিক সেই সময় ফের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি সক্রিয়। বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াংয়ের বিভিন্ন পদাধিকারীরা একজোট হচ্ছেন। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং চৌরাস্তায় গোর্খা রঙ্গমঞ্চ ভবনে গোর্খাল্যান্ডের সমর্থনে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ের উন্নয়নে বৈঠক করছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা ছিলেন সেই বৈঠকে। পাহাড়ের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নের জন্য কমিটিও গঠন হয়েছে। সাংবিধানিকভাবেই পাহাড়ের সমস্যা সমাধান হবে, সেই কথাও জানানো হয়েছে। জিটিএর মাধ্যমে দার্জিলিং-সহ পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। সেই আবহে কীভাবে ফের গোর্খাল্যান্ড দাবি উঠতে পারে? সেই প্রশ্ন উঠছে ওয়াকিবফাল মহলে।
ওই কর্মসূচিতে পাহাড়ের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সকলে সাড়া দিয়েছে, এমনটা নয়। কিন্তু ওই সমাবেশ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, আবার কি বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি সক্রিয় হল? তা যদি হয়, কার বা কাদের মদতে? গত বছর ২৩ থেকে ২৫ নভেম্বর নয়া দিল্লিতে সমাবেশ করেছিল গোর্খাল্যান্ড রাষ্ট্রীয় মঞ্চ। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দার্জিলিংয়ে সমাবেশের ডাক তাদেরই, এমনই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সেখানে থাকবেন অসমের কার্বি আলঙ অটোনমাস কাউন্সিলের প্রাক্তন উপপ্রধান লোকনারায়ণ সুব্বা, যিনি এই মঞ্চের মুখ্য আহ্বায়ক। দেরাদুনের বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভূপেন্দ্র সিং ছেত্রী, মঞ্চের মুখ্য উপদেষ্টা। অরুণাচল থেকে আসবেন সনু তামাং, ইনিও মঞ্চের পদাধিকারী।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শালবাড়িতে সভা করেছিল এই মঞ্চ। সেখান থেকেও গোর্খাল্যান্ড চাই, বলে জিগির তোলা হয়েছিল। সেটাই ফের চাগিয়ে তোলা হবে আগামী ৭ তারিখ। একটা বিষয় স্পষ্ট, বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা পাহাড়ের মানুষ এই মঞ্চের মদতদাতা। কিন্তু স্থানীয়দের কাছ থেকে কতটা সাড়া পাবেন, তা স্পষ্ট নয়। মঞ্চের সহকারী আহ্বায়ক কিশোর প্রধান বলেন, "পাহাড়কে বারবার ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। বিজেপি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। আমরাও সেটাই চাই। এর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদের কথা আসছে কোথা থেকে?” মোর্চা নেতা বিমল গুরুং আস্থা রেখেছেন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতি। এবার পাহাড়ের সমীকরণ কী হবে? সেই নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
