shono
Advertisement

ব্রিটিশের গুলির সামনেও অকুতোভয়, মাতঙ্গিনী হাজরার বাড়িকে হেরিটেজ স্বীকৃতির আবেদন

'গান্ধীবুড়ি', শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার তমলুকের বসতবাড়িকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সেটি পর্যটনকেন্দ্র হিসাবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা পরিষদ।
Published By: Arpita MondalPosted: 10:39 AM Aug 15, 2026Updated: 10:51 AM Aug 15, 2026

স্বাধীন ভারতের আজ আরও একটি দিন সংযুক্ত হয়েছে। অথচ, সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি। এই বাড়ির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অগ্নিকন্যার জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে সেই ঐতিহাসিক ভিটে এবার নতুন করে সাজতে চলেছে। 'গান্ধীবুড়ি', শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার তমলুকের বসতবাড়িকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি সেটি পর্যটনকেন্দ্র হিসাবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা পরিষদ।

Advertisement

১৯৪২ সালের 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনে তমলুক ও মেদিনীপুরের মাটিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যে তীব্রতা পেয়েছিল, তার অন্যতম প্রতীক ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। জাতীয় পতাকা হাতে ব্রিটিশ পুলিশের গুলির সামনে নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সেই স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে চলেছে তমলুকের একাধিক স্থান। সেই স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন তাঁর বসতবাড়ি। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্নে সেই বাড়ি এখন ভগ্নপ্রায়। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন, "শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার বাড়িটি যাতে দ্রুত হেরিটেজের মর্যাদা পায়, তার জন্য হেরিটেজ কমিটির কাছে আবেদন করা হচ্ছে।"

জেলা পরিষদের আধিকারিকরা গিয়ে মাপজোকও করেন। নিজস্ব ছবি।

সম্প্রতি জেলা পরিষদের আধিকারিকদের নিয়ে ওই বাড়ি পরিদর্শনও করা হয়েছে। প্রাচীন কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সেটিকে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাতঙ্গিনী হাজরার বাড়িকে ঘিরে একটি স্মৃতি প্রদর্শন কেন্দ্র ও ডিজিটাল মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে উনার জীবন, তাঁর রাজনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ড ও স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার দুর্লভছবি, তথ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে। বাড়ির আশপাশে আলোকসজ্জার পাশাপাশি সৌন্দর্যায়নের কাজও করা হবে। পর্যটকদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে। সংরক্ষণ ও পর্যটনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে এই এলাকাকে নতুনভাবে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement