যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ। ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি শেষপর্যন্ত কী হবে? সেই বিষয়ে জোর চর্চা চলছে আন্তর্জাতিক মহলে। আবু ধাবিতে দীর্ঘ সময় ধরে থাকছেন বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা পুলক চট্টোপাধ্যায়। যুদ্ধের আবহে প্রবল আতঙ্কে সস্ত্রীক সিউড়িতে ফিরে এসেছেন প্রৌঢ় পুলক। ইরানের হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। কান ফাটানো আওয়াজ, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে এলাকা। সেই আতঙ্কের ছাপ এখনও চোখেমুখে রয়েছে। কাজকর্ম সব ওই দেশেই। সেখানে ফেরার বিমানের টিকিটও কাটা রয়েছে। কিন্তু বিমান একের পর এক বাতিল হচ্ছে। শেষপর্যন্ত এখন কি যেতে পারবেন আবু ধাবিতে? সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁর মনে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে থেকেছেন তিনি। ১৯৯৩ সালে আবু ধাবিতে গিয়েছিলেন প্রথমে। এরপর কাতার, দুবাইতেও ছিলেন। এই মুহূর্তে কর্মসূত্রে আবু ধাবির বাসিন্দা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তীব্র আওয়াজ, কম্পন অনুভব করেছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। অন্যদের মতো তিনিও বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। দেখা যায়, আকাশে মিসাইল হানা। আতঙ্ক গ্রাস করেছিল। মনে প্রশ্ন উঠেছিল, এরপর কী হবে? কোনওরকমে প্রাণভয়ে, আতঙ্কে ওই রাত কেটেছিল। পরদিন কর্মক্ষেত্রে গিয়ে দেখেছিলেন সহকর্মীদের চোখেমুখে আতঙ্ক।
দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে থেকেছেন তিনি। ১৯৯৩ সালে আবু ধাবিতে গিয়েছিলেন প্রথমে। এরপর কাতার, দুবাইতেও ছিলেন। এই মুহূর্তে কর্মসূত্রে আবু ধাবির বাসিন্দা।
এদিকে সরকারের তরফ থেকে একের পর বার্তা আসতে থাকে। রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে বারণ করা হয়। নির্দিষ্ট জায়গায় থাকার কথাও বলা হয়েছিল। ইরান ক্রমাগত হামলা চালাতে শুরু করেছিল। কিছুদিন পরেই স্ত্রীকে নিয়ে বিমানে বাংলায় ফেরার কথা ছিল। আবু ধাবি থেকে কলকাতার বিমানের টিকিট কাটা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাছে। তাহলে কি তাঁরা কলকাতায় আসতে পারবেন? নাকি যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে আটকে গেলেন? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন। বিমান সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।
বীরভূমের নিজের বাড়িতে পুলকবাবু। নিজস্ব চিত্র
জানানো হয়, বিমান ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। কিন্তু কলকাতা নয়, আমেদাবাদে বিমান নামবে। ওই বিমানে স্বামী-স্ত্রীর জায়গা হতে পারে। আমেদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার দায়িত্ব তাঁদেরই। এই প্রস্তাব যেন হাতে চাঁদ পাওয়ারই মতো। প্রস্তাবে রাজি হয়ে শেষপর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে বিমানে স্ত্রীকে নিয়ে উঠেছিলেন পুলক। মনে আতঙ্ক তখনও রয়েছে, ইরানের মিসাইল হানা হবে না তো বিমানবন্দরে? আকাশে ওড়ার সময় ওই বিমান লক্ষ্য হবে না তো ইরানের? কিন্তু তেমন কিছু অঘটন হয়নি। নির্দিষ্ট সময় বিমানের চাকা আবু ধাবি ছাড়ে। ভারতের আমেদাবাদে নামার পরে স্বস্তির শ্বাস নেন ওই দম্পতি।
শেষপর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে বিমানে স্ত্রীকে নিয়ে উঠেছিলেন পুলক। মনে আতঙ্ক তখনও রয়েছে, ইরানের মিসাইল হানা হবে না তো বিমানবন্দরে? আকাশে ওড়ার সময় ওই বিমান লক্ষ্য হবে না তো ইরানের?
এই মুহূর্তে তাঁরা সিউড়ির বাড়িতেই আছেন। তবে কিছু দিন পরেই তাঁদের ওই দেশে ফেরার কথা। কিন্তু এখন কি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফেরা সম্ভব? বিমান বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে পুলক চট্টোপাধ্যায় আবু ধাবিতে ফিরতে চান। এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন। যুদ্ধের খবরে চোখ রাখছেন প্রতিনিয়ত। আবু ধাবির পরিচিত, অফিস কলিগদের সঙ্গে কথাও বলছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন। সংযুক্ত আরব আমির শাহি সরকার এবং ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগিতা পেয়েছেন। সেই কথা বারবারই জানিয়েছেন তিনি।
১৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬৫০টি দ্রোণ হামলা ইরান চালিয়েছিল বলে জানান পুলকবাবু। বেশিরভাগই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। যুদ্ধ দ্রুত থামুক। অন্যান্যদের মতো তিনিও চাইছেন।
