shono
Advertisement

বরফের দেশে তরুণ গবেষকের মৃত্যু, কীভাবে ফিরবে দেহ?

চোখের জলে বাবা-মা শুধু শুভজিৎকেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন ।
Posted: 05:52 PM Mar 30, 2018Updated: 07:14 PM Jul 11, 2019

সুমিত বিশ্বাস,পুরুলিয়া: মেরু প্রদেশে গবেষণায় গিয়ে মৃত তরুণ বাঙালি গবেষক ছাত্রের মৃতদেহ আনতে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। কিন্তু হাজার-হাজার কিমি পথ অতিক্রম করে পুরুলিয়া শহরের নডিহা-দুলমির ভুঁইয়া পাড়ার বাড়িতে গবেষক শুভজিৎ সেনের মৃতদেহ কবে আসবে তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবার-পরিজনদের। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে আন্টর্কটিকা পর্যন্ত জলপথে প্রায় দু’সপ্তাহ সময় লাগে। কেবলমাত্র বিমানেই  সম্ভব সেই দূরত্ব কমিয়ে আনা। কিন্তু এই সমগ্র বিষয়টি কার্যকর হতে কত সময় লাগবে, তা জানা নেই মৃত শুভজিতের পরিবারের। তাই প্রত্যেক মিনিটে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

Advertisement

[রাখা হল না মাকে দেওয়া কথা, কুমেরু অভিযানে মৃত্যু পুরুলিয়ার শুভজিতের]

এদিকে সূত্রের খবর, ওই বেস ক্যাম্পে গত চার মাস ধরে নেট পরিষেবা খারাপ থাকায় দেহ ভারতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া গোটা বিষয়টির তদন্ত চলছে। তবে শুক্রবার সকালে পুরুলিয়ার জেলাশাসক অলকেশ প্রসাদ রায় বলেন,“পুলিশকে বলেছি বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যাতে দ্রুত দেহ আনা যায়। আমরা সমস্ত কিছু দেখছি।” এদিন সেই মোতাবেক পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ শুভজিতের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এই গোটা ঘটনার খোঁজ নেন জেলার বাসিন্দা তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো।

গোয়ার যে সংস্থার হাত ধরে ওই গবেষণার কাজে বিদেশে শুভজিৎ পাড়ি দিয়েছিলেন,  সেই ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর আন্টার্কটিক অ্যান্ড ওশন রিসার্চ’ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের বেস ক্যাম্প ‘মৈত্রী’ থেকে সেখানকার নবো বিমানবন্দর প্রায় আট কিমি। তবে ওই বিমানবন্দরে কোন যাত্রীবাহি বিমান ওঠানামা করে না। রুশ বিমানগুলি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন পর্যন্ত পণ্য ওঠানামার কাজ করে। ফলে ওই গবেষকের মৃতদেহ বেস ক্যাম্প থেকে বিমানে করে কেপটাউনে আনতে গেলে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন। কেপটাউন থেকে যে জাহাজ চলে তার অধিকাংশই রাশিয়ার।

[উত্তরবঙ্গ জুড়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, দেখুন শিলাবৃষ্টির ভিডিও]

গোয়ার এই সংস্থা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, ‘কনভয় অপারেশনে’ শুভজিতের মৃত্যু হয়। কিন্তু ঠিক কিভাবে দুর্ঘটনায় তিনি জখম হয়েছেন তা এখনও সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই মৃত্যু নিয়ে বেশ ধোঁয়াশা রয়েছে। শুভজিতের দাদা শুভঙ্কর বলেন, “প্রশাসন, পুলিশকে সব বলেছি। বুঝতে পারছি না ভাইয়ের দুর্ঘটনাটা ঠিক কেমন ভাবে ঘটল। কবে যে মৃতদেহ আসবে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না।” এদিকে শুভজিতের বাবা দিলীপ কুমার সেন, মা মুক্তা দেবী শুধুই কেঁদে যাচ্ছেন। কিছুতেই তাঁদের থামানো যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুখে কিছু তোলেননি বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁদের শুধু একটাই প্রশ্ন, কীভাবে হল এই দুর্ঘটনা? এ প্রশ্ন বাকিদেরও ভাবিয়ে তুলছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার