সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শুক্রবার রাজ্যজুড়ে প্রাক-বর্ষা অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে মানুষকে। কিন্তু ঝড়ের দাপট ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি কিছু প্রাণও কেড়ে নিয়েছে। আগামী দু’দিনও রাজ্যে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
এদিন সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি হয়। তবে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প থাকার কারণে তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। তামপাত্রা সাময়িক কমলেও গরম থেকেই যাবে বলে খবর। তবে ইতিমধ্যেই পূর্বভারতের মিজোরামের দিকে বর্ষা প্রবেশ করেছে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, জুন মাসের শেষে রাজ্যে বর্ষা ঢুকবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
[হাওড়া স্টেশনে দালালের খপ্পরে খোদ রেলকর্তা, দৌরাত্ম্যে তিতিবিরক্ত যাত্রীরা]
এদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয় হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলায়। হুগলিতে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় দুজনের। বিকেলে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে আরামবাগ থানার পূর্ব হরিপুর গ্রামে। মৃতরা হলেন বলরাম বাগ (৫০) ও রেণুপদ বাগ(৬০)। পূর্ব হরিপুর গ্রামেই দুজনের বাড়ি। পেশায় দিনমজুর প্রতিদিনের মতো এদিনও পুরশুড়ার মারকুণ্ডা গ্রামে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজের শেষে বিকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি এসেও গিয়েছিলেন। সেসময় বজ্র বিদ্যুৎ-সহ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগের মধ্যে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পূর্ব হরিপুরে মুণ্ডেশ্বরী নদীর কাছাকাছি একটা তালপাতার ছিটেবেড়ার ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেন তাঁরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ছিটেবেড়ায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গড়বেতাতে বাজ পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কান্দি, নানুর ও মঙ্গলকোটে মোট তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মিলেছিল আন্দামান উপকূলে এসে গিয়েছে বর্ষা। ইতিমধ্যে কেরল উপকূলে ঝেঁপে নেমেছে বৃষ্টি। সাধারণত ১ জুন দেশের মূল ভূ-খণ্ডে বর্ষা আসার পালা। কিন্তু গতকাল থেকেই কেরলকে ভেজাতে শুরু করেছে বৃষ্টি। আবহবিদরা জানিয়েছিলেন, জোড়া ঘূর্ণিঝড়, সাগর এবং মেকুনুর কারণে এবার আন্দামান উপকূলে বর্ষা ঢুকতে দেরি হয়েছে।
[পঞ্চায়েত ও বিদ্যুৎ দপ্তরের টানাপোড়েনে আঁধারে বিস্তীর্ণ এলাকা, বালুরঘাটে ক্ষোভ]
The post আগামী দু’দিনও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, বাজ পড়ে রাজ্যে মৃত অন্তত ৭ appeared first on Sangbad Pratidin.
