কলকাতা ওড়ানোর হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাপের মুখে অবশেষে এই ইস্যুতে মুখ খুললেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। মঙ্গলবার বারাকপুরে রাজনৈতিক সভায় উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সাল মনে করালেন রাজনাথ। হুঁশিয়ারি দিলেন, 'বাংলার দিকে নজর দিলে অসংখ্য টুকরোয় ভাগ হয়ে যাবে পাকিস্তান।'
মঙ্গলবার বারাকপুরে বিজেপির রোড শো চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন রাজনাথ। সেখানেই পাকিস্তানের হুমকির প্রশ্ন উঠতেই তিনি বলেন, ''পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন এর পালটা শুধু এইটুকুই বলব, ৫৫ বছর আগের ঘটনা ওদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ১৯৭১ সালে ওরা একবার বাংলার দিকে নজর দিয়েছিল, যার পালটা পাকিস্তান দুইভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একটা পাকিস্তান ও অন্যটা বাংলাদেশ। এবার যদি ওরা বাংলার দিকে তাকানোর দুঃসাহস দেখায় তাহলে ওদের কী অবস্থা হবে তার ভবিষ্যৎ লেখা হয়ে রয়েছে। ওরা সময় এলে ঠিক বুঝে যাবে। এবার ওদের কত টুকরো করা হবে তা ঈশ্বরই জানেন।''
১৯৭১ সালে ওরা একবার বাংলার দিকে নজর দিয়েছিল, যার পালটা পাকিস্তান দুইভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। এবার যদি ওরা বাংলার দিকে তাকানোর দুঃসাহস দেখায় তাহলে ওদের কী অবস্থা হবে তার ভবিষ্যৎ লেখা হয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে পাকিস্তানের সিয়ালকোটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্পষ্ট হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “ভারত যদি এবার মিথ্যা অজুহাতে কোনও রকম অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না। এবার আমরা সেই সংঘাত কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাদের ঘরে ঢুকে হামলা চালাব।”
আসিফের মন্তব্যের পর এই ইস্যুতে সরব হয়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ তোলা হয়েছিল, পাকিস্তানের হুমকির পরও প্রধানমন্ত্রীর তরফে কেন এই ইস্যুতে কোনও মন্তব্য করা হচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বললেন কী করে? মোদি তো গতকাল (রবিবার) এখানে এসেছিলেন প্রচার করতে। কোনও পদক্ষেপ করার কথা বললেন না কেন? কেন চুপ রইলেন? পাকিস্তানকে পালটা হুঁশিয়ারি কেন দেওয়া হল না? ওখানকার মন্ত্রীকে দিয়ে কে একথা বলিয়েছেন? এসবের তদন্ত চাই। আমরা কলকাতাকে আক্রমণের কথা বললে মানব না।’’ এরপরই এই ইস্যুতে মুখ খুলে পিঠ বাচালেন রাজনাথ।
