বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) জন্য এবার বড়সড় প্রভাব পড়ল শিক্ষাঙ্গনে। মঙ্গলবার থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল মুর্শিদাবাদের জেলার ফরাক্কা ব্লকের অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলে প্রায় ১১ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। নির্বাচনের জন্য আসা কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানদের থাকার ব্যবস্থা করার ফলে আগামীকাল থেকে স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সোহরাব। বিধানসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ন করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। যার ফলে নির্বাচনের দিন ঘোষণার বহু আগে থেকে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মুর্শিদাবাদে মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানেরা ইতিমধ্যে স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে 'এরিয়া ডমিনেশন' করছে। তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নির্বাচন নিরুপদ্রবে হবে বলেও আশ্বাস দিচ্ছেন।
নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতি সংখ্যা বাড়ছে। অসমর্থিত সূত্রের খবর নির্বাচনের দিন পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আড়াই লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হবে। রাজ্যে ভোট পূর্ববর্তী নিরাপত্তা বজায় রাখতে কয়েকশো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানদেরকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বাড়ি বা ছোটখাটো হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানদের উপস্থিতির ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জওয়ানরা একাধিক ঘর দখল করে থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠছিল।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপস্থিতির ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জওয়ানরা একাধিক ঘর দখল করে থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠছিল।
এবার সরাসরি নোটিস দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে দিল মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম ফরাক্কার অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সোমবার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সোহরাব আলি নোটিস দিয়ে ছাত্রছাত্রীদেরকে জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে থাকবে। সেই কারণে সমস্ত ক্লাসের পরীক্ষা এবং পঠনপাঠন মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার নোটিশে জানিয়েছেন, জওয়ানরা চলে যাওয়ার পর স্কুল কবে থেকে খুলবে তা ছাত্রছাত্রীদেরকে পরে জানানো হবে।
ভোটের নোটিসে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকার কথা ঘোষণা করলেও অনেকেই সন্ধিহান আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়ার পরেই আদৌ স্কুল খোলা সম্ভব হবে কিনা সেই বিষয়ে। শিক্ষক আমিনুলজামান পারভেজ জানান, "বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে থেকে আমরা জানতে পেরেছি নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরকে রেখে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করছি ফরাক্কার অর্জুনপুর হাইস্কুলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেশ কিছু জওয়ান থেকে যাবে। এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের শৌচাগার এবং শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করার জন্য যদি জওয়ানরা ভোটের পরও থেকে যান সে ক্ষেত্রে কবে স্কুলের পঠনপাঠন স্বাভাবিক হবে তা আমরা কেউই জানি না।"
স্কুল সূত্রের খবর, অর্জুনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ত্রিতল ভবনে অসংখ্য ঘর রয়েছে। প্রায় ১১ হাজার ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৬৬ জন স্থায়ী এবং ১৩ জন প্যারাটিচার রয়েছেন। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জন্য পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছে।
স্কুল সূত্রের খবর, অর্জুনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ত্রিতল ভবনে অসংখ্য ঘর রয়েছে। প্রায় ১১ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৬৬ জন স্থায়ী এবং ১৩ জন প্যারাটিচার রয়েছেন। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকার জন্য পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছে। তবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু থাকবে। স্কুল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঢুকতে শুরু করবেন। তাঁদের রাখার পরিকাঠামো তৈরির জন্য মঙ্গলবার থেকেই এক প্রকার বাধ্য হয়ে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একই নোটিশে স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদেরকে আগামী মঙ্গলবার এবং বুধবার দু'দিনই স্কুলে আসতে বলা হয়েছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দু'দিন স্কুলে ক্লাস না হলেও শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি নিতে সেখানে হাজির হতে বলা হয়েছে। এপ্রসঙ্গে অর্জুনপুর হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিব আহসান পারভেজ বলেন, "কমিশন ইচ্ছা করে ভোটের বহু আগে থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরকে মোতায়েন করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায়। এরফলে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা করতে হচ্ছে।"
