ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা তো বটেই, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে অন্য চাপ বন্যপ্রাণ। টহলে তাঁরাও সতর্ক। কখনও হাতি, কখনও বাইসন, কখনও বাঘ। বন্যপ্রাণীরা যখন-তখন মুখোমুখী হয়ে পড়ছে মানুষের। ভোটের আগে তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি জোরদার হয়েছে জঙ্গলঘেরা চা-বাগান ও গ্রামাঞ্চলে।
রুটমার্চের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নিচ্ছেন জওয়ানরা। তবে রাজনৈতিক অভিযোগের বদলে বারবার উঠে আসছে এক ভিন্ন বাস্তব। নাগরাকাটা ব্লজে বন্যপ্রাণীর উৎপাতেই অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, হাতি, চিতাবাঘ ও বুনো শূকরের উপদ্রবে নাজেহাল অবস্থা। প্রায়ই হাতির হানায় ফসল নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চিতাবাঘের হামলায় প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
নাগরাকাটা ব্লকের খেরকাটা গ্রামে কয়েক মাস আগে চিতাবাঘ একটি শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল যা এখনও আতঙ্ক জাগায় এলাকার মানুষের মনে। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনে বিস্মিত হয়ে পড়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান। সহায়তার সুরে সহকর্মীর উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "এ ক্ষেত্রে আমরা কী-ই বা করতে পারি!"
ডুয়ার্সের জঙ্গলসংলগ্ন চা-বাগান এলাকাগুলিতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত দীর্ঘদিনের। নাগরাকাটা, খয়েরবাড়ি কিংবা বামনডাঙ্গা টোন্ডু চা-বাগান এলাকায় এই সমস্যা নিত্যসঙ্গী।
রাজনৈতিকভাবে এলাকা তুলনামূলক শান্ত। বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে সময় কাটান, সহাবস্থানের ছবি স্পষ্ট।
নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে জওয়ানদের স্থানীয় ভাষা শেখানো হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়। "কেমন আছেন, কোনও সমস্যা আছে?” এই প্রশ্নের উত্তরে একটাই সুর বন্যপ্রাণীর ভয়ে দিন কাটছে তাঁদের। ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, ডুয়ার্সের এই অঞ্চলে মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে প্রতিদিনের জীবনযাপন প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে লড়াই করেই টিকে থাকা। তবে সব দিক দিয়ে গ্রামবাসীদের ভরসা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন।
