কেন্দ্রীয় বাহিনীর এরিয়া ডমিনেশন। সেই সঙ্গে সাধারণ পর্যবেক্ষক রাস্তায় নেমে একেবারে বুথে বুথে নজরদারি। লক্ষ্য একটাই জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় (Purulia) ১০০ শতাংশ ভোটারকে কোনওরকম ভয় ছাড়াই বুথমুখি করা। কিন্তু হাতি-হায়না-চিতাবাঘ-বন্য শূকরের ভয় থেকে অভয় দেবে কে? শুধু কি তাই পুরুলিয়া যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারেরও ল্যান্ডস্কেপ!
পুরুলিয়ার তিন বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই 'ওয়াইল্ডরনেস প্রোন বুথ'-এর সংখ্যা এই জেলায় ১৪৮ টি। তার মধ্যে পুরুলিয়া বনবিভাগই রয়েছে সবচেয়ে বেশি ৯০টি, কংসাবতী উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে ২৯টি করে। পুরুলিয়া বনবিভাগে ওই বুথগুলির বনবস্তি লাগোয়া হাতি-হায়না এমনকী চিতাবাঘ, নেকড়ের করিডর। এছাড়া বন্য শূকর তো রয়েইছে। পুরুলিয়া বনবিভাগের জয়পুর বনাঞ্চল বাদ দিয়ে অন্যান্য রেঞ্জগুলি হাতি উপদ্রুত। হায়না রয়েছে ঝালদা, অযোধ্যা পাহাড় বনাঞ্চলে। আর কোটশিলা বনাঞ্চলে আছে চিতাবাঘ।
আর এই বন্যপ্রাণের কথা মাথায় রেখেই একেবারে প্রস্তুত পুরুলিয়ার তিনটি বন বিভাগ পুরুলিয়া, কংসাবতী উত্তর ও কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগ। তারা যেমন ভারচুয়াল বৈঠক করে অরণ্যভবনকে জানিয়ে দিয়েছেন 'ওয়াইল্ডরনেস প্রোন বুথ'-এর কথা। তেমনই প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনকে। তবে এর প্রেক্ষিতে কমিশন কী ব্যবস্থা নেবে, তা প্রাথমিকভাবে আলোচনা হলেও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পুরুলিয়ার তিন বনবিভাগের ৭১ টি কুইক রেসপন্স টিমের প্রায় ১ হাজার জন সদস্য একেবারে প্রস্তুত। ভোটের জন্য তাঁদের আলাদাভাবে প্রশিক্ষণও দিয়ে দিয়েছে পুরুলিয়ার তিন বন বিভাগ। পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, "কুইক রেসপন্স টিম বা র্যাপিড রেসপন্স টিম সংশ্লিষ্ট বুথ ও তার আশেপাশে এলাকায় থাকবে। নির্ভয়ে ভোটদানে কোন সমস্যা হবে না।"
পুরুলিয়ার (Purulia) তিন বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই 'ওয়াইল্ডরনেস প্রোন বুথ'-এর সংখ্যা এই জেলায় ১৪৮ টি। তার মধ্যে পুরুলিয়া বনবিভাগই রয়েছে সবচেয়ে বেশি ৯০টি, কংসাবতী উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে ২৯টি করে। পুরুলিয়া বনবিভাগে ওই বুথগুলির বনবস্তি লাগোয়া হাতি-হায়না এমনকী চিতাবাঘ, নেকড়ের করিডর। এছাড়া বন্য শূকর তো রয়েইছে। পুরুলিয়া বনবিভাগের জয়পুর বনাঞ্চল বাদ দিয়ে অন্যান্য রেঞ্জগুলি হাতি উপদ্রুত। হায়না রয়েছে ঝালদা, অযোধ্যা পাহাড় বনাঞ্চলে। আর কোটশিলা বনাঞ্চলে আছে চিতাবাঘ।
এখন থেকেই মোবাইল ভ্যান নিয়ে টহলদারি শুরু হয়ে গিয়েছে। নিজস্ব ছবি
অন্যদিকে, কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগেও বান্দোয়ান ১, বান্দোয়ান ২ ও যমুনা রেঞ্জ মিলিয়ে যেমন বুনো হাতির করিডর রয়েছে। তেমনই নেকড়ে, চিতাবাঘ আর সেই সঙ্গে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ল্যান্ডস্কেপ। কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের ওই তিনটি বনাঞ্চল ঘুরে গিয়েছে, ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের জিনাত। সেইসঙ্গে পালামৌ ব্যাঘ্র প্রকল্পের জিনাত সঙ্গী বা কিলা। কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের রঘুনাথপুর বনাঞ্চল হায়না উপদ্রুত। তবে অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী বাঁকুড়া থেকে হাতিরও যাওয়া-আসা আছে।
এই তিন বনবিভাগের একাধিক রেঞ্জ এসব কথা মাথায় রেখেই একেবারে প্রস্তুতি সারা। নির্বাচন কমিশন যেভাবে কুইক রেসপন্স টিমকে সংশ্লিষ্ট বুথ এলাকায় মোতায়েন করবে। ঠিক সেই ভাবেই তৈরি ওই দল। ওই দল ভোটের আগের দিন থেকেই রীতিমত বুথ ও বুথের চারপাশ মোতায়েন হয়ে নির্ভয়ে ভোটদানে সংশ্লিষ্ট এলাকার কার্যত দখল নিয়ে নেবে। আগের দিন থেকেই যেহেতু ওই টিম সংশ্লিষ্ট বুথ এলাকায় টহল দেবে তাই তাদের হাতে থাকবে টর্চ, সার্চলাইট, ওয়াকিটকি, জাল, দড়ি এমনকি খাঁচাও। যদি বুথের সামনে চলে আসে হাতি-হায়না? এদিকে, এই তিন বন বিভাগের বনাঞ্চল এলাকায় যাতে কেউ কাঠ পাচার না করে, বন্যপ্রাণকে নিয়ে কোনওরকম অপরাধ না ঘটে তার জন্য জঙ্গল সন্নিহিত-সহ জঙ্গলের প্রবেশপথে টহলদারি শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়া বনবিভাগে জঙ্গলে ঢোকার পথ রয়েছে ৩২৪টি। কংসাবতীর দক্ষিণ বন বিভাগে ১৭৩টি। কংসাবতী উত্তর বন বিভাগের ২৭টি। এই প্রবেশপথ এখন ২৪ ঘণ্টা বনকর্মীদের নজরদারিতে।
