বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: আগেই বাঘ, সিংহ প্রজননে এসেছিল সাফল্য! এমনকী হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার প্রজননেও সাফল্য মিলেছিল। এবার বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বানর 'ম্যানড্রিল'-এর প্রজননেও সফলতা পেল শিলিগুড়ি বেঙ্গল সাফারি পার্ক। 'ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড নেচার'-এর লাল তালিকাভুক্ত এই বানর। এই অবস্থায় খুদে অতিথিকে স্বাগত জানাতে পেরে উচ্ছ্বসিত বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রাজ্য বন দপ্তর এবং জু অথরিটি। কড়া নজর রাখা হচ্ছে সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকটির উপর।
রাজ্যে একমাত্র উত্তরের বেঙ্গল সাফারিতেই রয়েছে ম্যানড্রিল প্রজাতির বানর! বেঙ্গল সাফারিতে থাকা বিষ্ণু ও নিয়তি নামে ম্যানড্রিল 'দম্পতি' গত সপ্তাহে জন্ম দিয়েছে একটি ফুটফুটে শাবকের। এরপরেই কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে নবজাতকের উপর। শরীর গরম রাখতে দেওয়া হয়েছে চটের বস্তা ও খড়। শরীর গরম রাখতে মা নিয়তির খাবারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সদ্যোজাতের লিঙ্গ নির্ধারণ এখনও সম্ভব হয়নি।
বেঙ্গল সাফারি পার্কের অধিকর্তা ই বিজয় কুমার জানান, ২০২৩ সালে তিনটে ম্যানড্রিলকে আনা হয়েছিল। খুবই আদর যত্নে প্রাণীগুলোকে রাখা হয়েছে। রাজ্যের কোনও চিড়িয়াখানায় ম্যানড্রিল প্রজাতির বানর নেই। প্রজননে সাফল্য মেলায় প্রত্যেকে খুব খুশি। মা ও শাবক ভালো আছে। ওদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, জামশেদপুরের টাটা স্টিল জামশেদপুর জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে তিনটে ম্যানড্রিল আনা হয়েছিল। এদের জন্য ২৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা খরচ করে পৃথক এনক্লোজার তৈরি করা হয় বেঙ্গল সাফারি পার্কে। যাতে পার্কে আসা মানুষজন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বানর 'ম্যানড্রিল'কে দেখার সাক্ষী থাকতে পারেন। টানা দু'বছর পর তিন ম্যানড্রিলের মধ্যে বিষ্ণু ও নিয়তি নামে দম্পতি গত সপ্তাহে জন্ম দেয় ফুটফুটে শাবকের! সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, বাঘ, সিংহের মতো প্রাণীদের প্রজননের পাশাপাশি ম্যানড্রিলের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীগুলোর সংরক্ষণেও নজর ছিল। অবশেষে সাফল্য এসেছে। এখন পর্যটকরা আরও বেশি আকৃষ্ট হবে।
