পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সাক্ষী রেখে মনের মানুষের সাথে নতুন জীবন শুরু করতে চান? তবে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর। কারণ, এমনই ভাবনাচিন্তা করছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আয় বাড়াতেই এমন পরিকল্পনা বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ১৪২ বছরের আয়ের রেকর্ড গড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। তাতে খুশির হাওয়া টয় ট্রেন কর্তৃপক্ষের। শুধু আয় নয় দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে বলেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেল প্রকাশ করেছে। আর এই সাফল্যের পিছনে প্রত্যেক পর্যটনমহল, হোটেল ব্যবসায়ী থেকে পাহাড়বাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ।
ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনার আগে পর্যন্ত পর্যটকদের পরিষেবা দিতে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ভরতুকি দেওয়া হত। কিন্তু তারপর থেকে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয় হেরিটেজ শিরোপা অর্জন করার পর থেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে শৈলরানির এই খেলনা গাড়িকে। এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন রেল বোর্ডের সদস্য তথা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের বর্তমান অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী। ডিএইচআরের নিত্য নতুন পরিষেবা, প্রাচীন ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিন ও কামরাকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন তিনি। আর তাতেই বাজিমাতে করেন তিনি।
এবিষয়ে ঋষভ চৌধুরী বলেন, "২০২৪ সালে ডিএইচআরের তূলনায় ১৬% বেশি আয় করেছে। যা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের সর্বকালের রেকর্ড। ২০২৫ সালে ডিএইচআরের আয় হয়েছে ২৪.৬ কোটি টাকা আয় করেছে। গত বছর আয় ছিল ২১.২ কোটি টাকা ছিল। পর্যটকদের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার পর্যটকরা টয় ট্রেনের পরিষেবা গ্রহন করছে। যা ২০২৫ সালে ২ লক্ষ ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর এতে প্রত্যেক ডিএইচআরের কর্মী খুশি।"
ডিএইচআরের এই সাফল্যের পিছনে, নতুন পরিষেবা, ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে আনা অজানা সব তথ্য, প্রাচীন হেরিটেজ ইঞ্জিন ও কামরা থেকে শুরু করে পর্যটকদের আকর্ষিত করতে প্রাচীন ব্রিটিশ আমলের মিউজিয়ামকে ঢেলে সাজিয়ে তোলাকে মূল কারণ হিসেবে ভাবছে ডিএইচআর ও পর্যটনমহল। দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে গরমের ছুটির আগে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলকে আরও বেশি প্রচারের আলোয় আনতে চারটি নতুন জয়রাইড পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গরমের ছুটিতে, ওই চারটি পরিষেবা ছুটবে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত।
পাশাপাশি নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে ছুটবে হেরিটেজ টয় ট্রেন পরিষেবা। চলতি বছরেই ওই পরিষেবা সরকারিভাবে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গরমের ছুটিতে ব্রিটিশ আমলের স্টিম ইঞ্জিনকেও ছুটতে দেখা যাবে পাহাড়ের আঁকে বাঁকে। এদিকে এবিষয়ে ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, "করোনার পর থেকে রেল কর্তৃপক্ষ টয় ট্রেনকে আরও বেশি প্রচারের আলোয় আনতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার ফলে এই আয় বেড়েছে। তবে আমরা চাই, টয় ট্রেনের মতো পরিষেবাকে আরও বেশি স্বাভাবিক রাখতে পাহাড় বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।"
