shono
Advertisement
West Bengal Budget

জঙ্গলমহলে শিল্পায়নে উদারহস্ত মমতা, অন্তর্বর্তী বাজেটে রঘুনাথপুরে ২৭ হাজার কোটির লগ্নি বার্তা

পর্যটন শিল্পের কথা মাথায় রেখে জঙ্গলমহলের ৪ জেলা - পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর শহরকে আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 08:30 PM Feb 05, 2026Updated: 08:30 PM Feb 05, 2026

ভোটের আগে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে জঙ্গলমহলের শিল্পায়নে উদারহস্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রুখাশুখা পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে 'জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী'তে ২৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। তিন হাজার একরের বেশি জমিতে ওই শিল্পায়ন হবে। পুরুলিয়াকে ঘিরে যে গ্রানাইট হাব তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, তার অধীনেই গ্রানাইট ব্লক নিলামের জন্য বাছা হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে ব্ল্যাকস্টোন ব্লকও। এছাড়া পুরুলিয়ার সাতটি প্রধান আকরিক ব্লক যেমন বিরল খনিজ পদার্থ, কপার এবং অ্যাপাটাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলিও নিলাম হবে। পাশাপাশি বাঁকুড়ায় গড়ে উঠবে নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পার্ক। পর্যটন শিল্পের কথা মাথায় রেখে জঙ্গলমহলের ৪ জেলা - পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর শহরকে আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য।

Advertisement

বাম আমলে রঘুনাথপুর শিল্পতালুক গড়ে ওঠার পর তিনটি বৃহৎ শিল্প সংস্থা জয় বালাজি, আধুনিক ও শ্যাম স্টিলকে জমি দেওয়ার পরেও তারা শিল্পায়নের কাজ করতে পারেনি। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবে রাজ্যে পালাবদলের পর ওই শিল্প সংস্থাগুলিকে রাজ্যের হাতে জমি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। তারপর রাজ্য রঘুনাথপুরকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৬ সালে এই রঘুনাথপুরকে ঘিরে আরও একধাপ এগিয়ে 'জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী' ঘোষণা করার পরেই শ্যাম স্টিল কারখানা গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। রাজ্য ওই শিল্প সংস্থাকে প্রায় ৬০০ একর জমি দেয়। বর্তমানে ওই শিল্প সংস্থা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রীতিমতো উৎপাদন করছে। শাকম্ভরীকে জমি দেওয়া হয়েছে ৫৪৭ একর। এছাড়া রশ্মি গ্রুপ ও নক্ষিত আয়রন অ্যান্ড স্টিলকেও জমি দিয়েছে রাজ্য। যার মধ্যে রশ্মিকে সবচেয়ে বেশি ৯৩৮ একর। এছাড়া এই 'জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী'র বাইরে অনুসারী শিল্প গড়ে উঠেছে। সেই অনুসারী শিল্প হিসেবে রয়েছে একাধিক সিমেন্ট কারখানা।

২০১৬ সালে এই রঘুনাথপুরকে ঘিরে আরও একধাপ এগিয়ে 'জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী' ঘোষণা করার পরেই শ্যাম স্টিল কারখানা গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। রাজ্য ওই শিল্প সংস্থাকে প্রায় ৬০০ একর জমি দেয়। বর্তমানে ওই শিল্প সংস্থা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রীতিমতো উৎপাদন করছে। 

'জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী'র পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পর সেভাবে এখানে বিনিয়োগের ঘোষণা করেনি রাজ্য। ফলে রঘুনাথপুরের শিল্পায়ন নিয়ে বারবার কটাক্ষ করতেন বিরোধীরা। এদিন রাজ্য বাজেটের প্রস্তাব অনুযায়ী, "আধুনিক ইস্পাত কারখানা স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যেই ৩ হাজার একরেরও বেশি জমি সম্ভাব্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। একাধিক নতুন সিমেন্ট কারখানা ইতিমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে এবং আরও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।"

বাজেটে এই প্রস্তাব দেখে শিল্পশহর রঘুনাথপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। উচ্ছ্বাস বনমহলের জেলার জঙ্গলমহলে ব্লকগুলিতেও। কারণ পুরুলিয়ার বলরামপুরের বেলডিতে একটি অ্যাপাটাইট মাইন এবং মিরমিতে কোয়ার্টজ ও ফেলসপার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। হুড়ার বড় পানজানিয়া ও রঘুনাথপুর ১ ব্লকের পশ্চিম বেরোতে দুটি গ্রানাইট প্রকল্পের কাজ চলছে। কাশীপুর ব্লকের পালসারাতে ব্ল্যাকস্টোন প্রজেক্ট ওয়ান ও থ্রি প্রকল্পের আওতায় দুটি ব্ল্যাকস্টোন খনি চলছে।

পুরুলিয়ার বলরামপুরের বেলডিতে একটি অ্যাপাটাইট মাইন এবং মিরমিতে কোয়ার্টজ ও ফেলসপার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। হুড়ার বড় পানজানিয়া ও রঘুনাথপুর ১ ব্লকের পশ্চিম বেরোতে দুটি গ্রানাইট প্রকল্পের কাজ চলছে। কাশীপুর ব্লকের পালসারাতে ব্ল্যাকস্টোন প্রজেক্ট ওয়ান ও থ্রি প্রকল্পের আওতায় দুটি ব্ল্যাকস্টোন খনি চলছে।

অর্থাৎ ভারী শিল্পের সঙ্গে পুরুলিয়ায় যে একটি বিপুল খনিজ শিল্প সম্ভাবনা ছিল, তাতে রাজ্য যে নজর দিয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে বাজেটে। ফলে খনিজ শিল্প ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যাবে এই রুখাশুখা জেলায়। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে -

  • রশ্মি গ্রুপ ২.৮ মিলিয়ন টন, ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট ও ৪০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে ৫৬৫৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
  • অন্যদিকে, নক্ষিত আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইস্পাত শিল্পে বিনিয়োগ করবে ১৪৪০ কোটি টাকা। রশ্মি গ্ৰুপের মেগা প্রকল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে সূত্রের খবর।

বাম আমলে রঘুনাথপুর ১ ও নিতুরিয়া মিলিয়ে শিল্পের জন্য ৫৫০০ একরের বেশি জমি নেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৩২০০ একর জমি। এই জমির মধ্যে সেই সময় জয় বালাজি সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১ হাজার একর জমি পেয়েছিল। শিল্প করতে না পেরে রাজ্যে পালাবদলের পর তারা ওই জমি ফেরত দেয়। সেই জমি রঘুনাথপুরে শিল্পায়নে ইচ্ছুক শিল্প সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে।

শিল্পায়নে উজ্জ্বল জঙ্গলমহল, দেখে নিন একনজরে -

  • রঘুনাথপুরে জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরীতে ২৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব
  • বাঁকুড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পার্ক
  • পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুরকে আধুনিক শহর
  • পুরুলিয়ায় গ্রানাইট ও ব্ল্যাকস্টোন ব্লক
  • বিরল খনিজ পদার্থের মতো উল্লেখযোগ্য পুরুলিয়ায় ৭ টি আকরিক ব্লক
Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement