ভোট কারচুপির পিছনে তৎকালীন বিডিও শানু বক্সি (BDO Shanu Bakshi)! সমাজমাধ্যমে চ্যাট ফাঁস করে বিস্ফোরক দাবি বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববির। শুধু তাই নয়, 'বাহুবলি' জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) প্রভাবেই শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও করা হয় বলেও দাবি তাঁর। গত ২১ মে ফলতা বিধানসভায় নির্বাচন ছিল। ভোটের আগেই হঠাৎ করেই জাহাঙ্গির নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে নেন। যা নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হয়েছে গৃহদাহ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই নেতার কীর্তি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এরমধ্যেই শানু এবং জাহাঙ্গিরের গোপন চ্যাট ফাঁস করে ববির দাবি, এই ফলতায় ২০২৪ সালে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পিছনে কারচুপি রয়েছে। আর সেই 'প্রমাণ' ফাঁস করা স্ক্রিনশটগুলিতে আছে বলে দাবি বিজেপি নেতার। যদিও জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে শানু বক্সির দাবি, সবকিছু এআই দিয়ে করা হয়েছে। এখন সবটাই সম্ভব।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি তাঁর সমাজমাধ্যমে শানু বক্সি এবং জাহাঙ্গির খানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলি সামনে এনেছেন। আর তা শেয়ার করে বিজেপি নেতা লিখছেন, 'শানু বক্সীকে ফলতার BDO বানানোর “অপারেশন”(WhatsApp চ্যাটে ফাঁস জাহাঙ্গীর খান, “Boss”, DM লবি ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের বিস্ফোরক যোগসূত্র!)। কীভাবে এই সমস্ত তথ্য পেয়েছেন সেই ইঙ্গিতও বিজেপি নেতা তাঁর সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন। সামনে আসা একটি স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, শান্তু বক্সি জাহাঙ্গির খানকে একাধিক সরকারি পিডিএফ ডকুমেন্ট পাঠাচ্ছেন। এরপর জাহাঙ্গির জবাবে লেখেন, শানু করে দিলাম। যেটা বলেছি, সেটা করলাম।
এছাড়াও একাধিক দুজনের কথোপকথন রয়েছে দুজনের। একটি স্ক্রিনশটে জাহাঙ্গিরকে লিখতে দেখা যাচ্ছে, 'আজ শানু বক্সী বিডিও ফলতা তাহলে। সেখানে জবাব আসে, হ্যাঁ গো! আর তা তুলে ববির অভিযোগ, ফলতার 'বাবুবলি' জাহাঙ্গির শানুকে ফলতার বিডিও করে আনার মূল কারিগর। আর তা হোয়াটসঅ্যাপের এহেন কথোপকথনেই স্পষ্ট। ফলত এই ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, শানু-জাহাঙ্গিরের চ্যাট থেকেই সবটা পরিষ্কার। ও বিডিও হওয়ার ফলে লোকসভা ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারদের চমকে, ইভিএমে সেলোটেপ মেরেছিলেন। ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শানু বক্সিকে ফলতায় বদলি করে আনা হয়। যদিও বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেয় কমিশন। শানুকে নিয়ে শুধু ববিই নন, এর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। 'সাদা খাতার বিডিও' বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।
