সরকারি বৃদ্ধাশ্রম থেকে রিসর্ট! শান্তিনিকেতনে খাস জমি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোষাগারে নেই রাজস্ব। প্রশ্নের মুখে জেলা প্রশাসন।
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিপল্লীর বল্লভপুরডাঙায় বৃদ্ধাশ্রম ‘গায়েব’, মাথা তুলেছে বিলাসবহুল রিসর্ট। সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা? উঠছে বড় প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, সরাসরি সরকারি জমির ব্যবহার, নির্মাণের বৈধতা এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রসঙ্গেই। আর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। জানা যায়, সরকারি খাস জায়গায় জেলাশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমির উপরেই জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে গড়ে উঠেছিল একটি বৃদ্ধাশ্রম। বর্তমানে সেটি সুইমিং পুল-সহ বিলাসবহুল রিসর্টে পরিণত হয়েছে। আর এখান থেকে আড়াই বছর ধরে কোন রাজস্ব জেলা পরিষদের সরকারি কোষাগারে জমা পরে না। সম্পূর্ণ 'বেআইনি' নির্মাণ, বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকারি খাস জায়গায় জেলাশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমির উপরেই জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে গড়ে উঠেছিল একটি বৃদ্ধাশ্রম। বর্তমানে সেটি সুইমিং পুল-সহ বিলাসবহুল রিসর্টে পরিণত হয়েছে। আর এখান থেকে আড়াই বছর ধরে কোন রাজস্ব জেলা পরিষদের সরকারি কোষাগারে জমা পরে না। সম্পূর্ণ 'বেআইনি' নির্মাণ, বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালা বদলের পর তৃণমূল-কংগ্রেসের নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়কদের দূর্নীতি, বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সরব স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই জায়গায় শান্তিনিকেতনে প্রবীণদের আশ্রয় কোথায়? বৃদ্ধাশ্রম বদলে গিয়েছে রিসর্টে। যদিও, এ বিষয়ে রিসর্ট সঞ্চারীর কর্ণধার রবীন্দ্রনাথ রায় বলেন, "আমাকে সরকারি ভাবে দেওয়া হয়েছে, আমি নিয়েছি। বাকি জেলা প্রশাসন বলতে পারবেন।" তবে জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ বলেন, "জেলা পরিষদের টাকায় বৃদ্ধাশ্রম গড়ে ওঠে। একটি ট্রাস্ট সরকারি খাস জায়গার উপর জেলা পরিষদের অর্থে নির্মিত হয় বৃদ্ধাশ্রম। কয়েক বছর পর বৃদ্ধাশ্রমের বদলে রূপান্তরিত হয়েছে রিসর্টে। আমার সময়ের আড়াই বছরে জেলা পরিষদের সরকারি তহবিলের কোন অর্থ জমা পড়েনি। সরকারি জমিতে কিভাবে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রিসর্ট বানিয়ে উপার্জন করতে পারে আমার জানা নেই। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ। আমি সভাধিপতি হওয়ার পর এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য জেলা শাসককে লিখিত জানিয়েছিলাম। কারন খাস জমি যেহেতু জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে থাকে। তবে তদন্ত হলেই খোঁজখবর নিলেই সব কিছু পরিষ্কার উঠে আসবে।" আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এর পিছনে কে বা কারা এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না কাজল। কেন তিনি নিজে ব্যবস্থা নিলেন না? দিনের পর দিন সবকিছু বেআইনি জেনেও চুপ থাকলেন বিধায়ক?
এই রিসর্টকে ঘিরেই যাবতীয় বিতর্ক।
বল্লভপুরডাঙায় স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় মার্ডি ও শংকর সরেন বলেন, ''প্রথমে কয়েকটা রুম বানিয়ে স্থানীয় গরিব অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের রাখা হয়। পরে তাদের সরিয়ে মধুসূদনপুর মৌজায় 'সঞ্চারী' নামে বিলাসবহুল রিসর্ট তৈরি হয়। এখন কলকাতা-সহ বাইরে থেকে বাবুরা আসেন এবং এখানে থাকেন।" এক প্রকার বিশালাকার গেট, ঘাসের লন, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভবন, সুইমিংপুল যুক্ত রিসর্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত। অথচ সরকারি খাস জমিতে জেলা পরিষদের অর্থানুকূল্যে গড়ে উঠে বৃদ্ধাশ্রম। তৎকালীন সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল কেরিম খান এটি নানুরের বাসাপাড়ার একটি সংস্থাকে ইজারা দিয়েছিলেন হস্তান্তর হয়, বোলপুরের একটি সংস্থার হাতে বলেই জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি জায়গায় একটি বেআইনি রিসর্ট থেকে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন হলেও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না। সরকারি জমিতে বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য কিভাবে।এখন দেখার, রাজ্যে পালাবদলের পর তদন্ত বা পদক্ষেপ কি নেন প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
